― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

‘৮৫ হাজারে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কথা বলায় সিন্ডিকেট হুমকি দিচ্ছে, আমি তোয়াক্কা করি না’: ডা. শফিকুর রহমান

মালয়েশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের শোষণমুক্ত রাখতে এবং মাত্র ৮৫ হাজার টাকায় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর আইনি ও যৌক্তিক দাবি তোলায় দেশের একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মানবসম্পদ রপ্তানিকারক সিন্ডিকেট তাঁর বিরুদ্ধে খেপে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, শোষিত ও বঞ্চিত সাধারণ জনগণের পক্ষে এবং দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি কোনো কালো সিন্ডিকেটের কোনো রকম রক্তচক্ষু বা হুমকির তোয়াক্কা করবেন না। বুধবার (১ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।

মতবিনিময় সভায় প্রবাসীদের পক্ষে সবসময় সংসদে এবং রাজপথে জোরালো অবস্থান ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াতের আমির বলেন, “আমরা এই ন্যায্য দাবি ইনশাআল্লাহ আগামীতেও জোরালোভাবে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করব। প্রবাসীদের অবর্ণনীয় ভোগান্তি ও ছয়-সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার নির্মম সত্যটি তুলে ধরায় আজ খবর পেলাম একদল লোক আমার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে। আমি তো সংসদের ভেতরে কোনো নির্দিষ্ট এজেন্সির নাম বলিনি বা কোনো বিশেষ দালালের তালিকা দিইনি; তাহলে কিছু অসৎ লোকের গায়ে এত আঘাত লাগে কেন?” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই চক্র শুধু মালয়েশিয়াতেই নয়, বরং গোটা বিশ্বে আমাদের দেশের গরিব, প্রান্তিক মানুষগুলোকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। লাখ লাখ টাকা ঋণ করে বিদেশে গিয়ে অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছে, আকামার ভ্যালিডিটি না থাকায় জেলে ধুঁকছে। এই অনিয়ম আমরা নীরবে হজম করব না; অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংসদে আমাদের জোরালো চিৎকার ও লড়াই অব্যাহত থাকবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বিরোধীদলীয় নেতা প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় তাঁদের অর্জিত আংশিক বিজয়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মুদি দোকানদারদের ওপর যে অন্যায্য উৎসে বা অগ্রিম কর আরোপের পরিকল্পনা আনা হয়েছিল, সংসদের ভেতরে-বাইরে তীব্র প্রতিবাদের মুখে সরকার তা প্রত্যাহার বা ‘আউট’ করতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া বিদেশ থেকে আমদানিকৃত সাইকেলের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, অর্থমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা লিখিত সংশোধনী জমা দিয়েছেন এবং বিল পাসের আগে ইতিবাচক আশ্বাসের অপেক্ষা করছেন।

দেশের চলমান ‘জুলাই-জুন’ অর্থবছর পরিবর্তনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে ডা. শফিকুর রহমান একে ‘উন্নয়নের দানব’ বা দৈত্যের রূপক দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রথম নয় মাস কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমায়, যার ফলে নয় মাসে ব্যয় হয় মাত্র ৪২ শতাংশ। অথচ শেষ তিন মাসে এসে ঝড়ের গতিতে বাকি ৫০ শতাংশ অর্থ তড়িঘড়ি করে ব্যয় দেখানো হয়। জুন মাসের বর্ষা ও ঝড়ে জনগণের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা পানির সাথে মিশে যায়; আর পেছনে চলে লুটপাট ও অপচয়ের মহোৎসব।” এই জাতীয় অপচয় ও দুর্নীতি রুখতে দেশের অর্থবছরকে আবহাওয়া ও জলবায়ুর সাথে সংগতি রেখে ‘১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর’ অর্থাৎ ক্যালেন্ডার ইয়ার অনুযায়ী নির্ধারণের জোর প্রস্তাব দেন তিনি। এছাড়া এমপি-মন্ত্রীদের বিনা শুল্কে গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সরকারি ফ্ল্যাট ব্যবহারের বিতর্ককে সস্তা রাজনীতি বলে উড়িয়ে দেন এবং ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার রোধে এনবিআর ও এক্সিকিউটিভ ডিপার্টমেন্টের কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ দেন।