― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

ইন্টার্নশিপ বন্ধ, আদ্-দ্বীনের ৮৬ এমবিবিএস শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

রাজধানীর মগবাজারস্থ আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক বাতিল করার আকস্মিক জেরে চরম শিক্ষাজীবন ও পেশাগত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটি থেকে এমবিবিএস (MBBS) সম্পন্ন করা ৮৬ জন দেশি ও বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসক। ৬ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ও লাইসেন্স সম্পূর্ণ স্থগিত করায় বর্তমানে এই হবু চিকিৎসকদের চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক এক বছরের ইন্টার্নশিপ বা ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) এবং ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিল (NMC) এর কড়া আইনি কাঠামোর কারণে অন্য কোনো হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ মাইগ্রেশন বা স্থানান্তরের সুযোগ না থাকায় এই গ্র্যাজুয়েটদের কোটি টাকা ব্যয়ে অর্জিত ডিগ্রির বৈধতা এখন অকার্যকর হওয়ার হুমকিতে পড়েছে।

এই নজিরবিহীন সংকটের মূল উৎস লুকিয়ে আছে বাংলাদেশ ও ভারতের চিকিৎসা শিক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার কঠোর আইনি ধারা ও বিধিমালার মধ্যে। বিএমডিসি-এর ২০২৩-২৪ ও পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালার ধারা ৭.০ এবং ৭.১-এর স্পষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থীকে যে মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস বা বিডিএস কোর্সের তাত্ত্বিক অংশ শেষ করতে হবে, ঠিক সেই কলেজের অনুমোদিত নিজস্ব হাসপাতালেই বিএমডিসি নির্ধারিত লগবুক অনুসরণ করে এক বছরের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে; এখানে অন্য কোনো হাসপাতালে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ মাইগ্রেশনের কোনো আইনি সুযোগ রাখা হয়নি। একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের (ফরেন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট লাইসেন্সিয়েট) রেগুলেশন্স, ২০২১-এর ৪(ক)(২) ধারায়, যেখানে উল্লেখ রয়েছে যে একই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাক্রম ও ইন্টার্নশিপ শেষ না করলে ওই চিকিৎসকের ডিগ্রি ভারতে কোনো অবস্থাতেই পেশাগত স্বীকৃতি পাবে না।

আইনি এই মারপ্যাঁচের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ডা. রেজার মতো অসংখ্য বিদেশি শিক্ষার্থী, যাঁরা দীর্ঘ সাত-আট বছর ধরে বাংলাদেশে বিপুল অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করে এমবিবিএস শেষ করেছেন। ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য ২৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে দফায় দফায় চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর আইনি বা কূটনৈতিক সমাধান পাননি। অন্য কোনো হাসপাতালে সাধারণ মাইগ্রেশন বা সংযুক্তির মাধ্যমে ইন্টার্নশিপের বাকি অংশ শেষ করলে ভারতের এনএমসি (NMC) গাইডলাইন অনুযায়ী নিজ দেশে তাঁদের ডিগ্রির কার্যকারিতা ও প্র্যাকটিস লাইসেন্স চিরতরে বাতিল হয়ে যাবে।

এই জটিল পরিস্থিতিতে বিএমডিসি সভাপতি ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম উদ্ভূত সংকটের তীব্রতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, হাসপাতাল বন্ধ হওয়ায় দেশি ও আন্তর্জাতিক উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের একাডেমিক ঝুঁকিতে পড়েছেন, যার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক মেডিকেল ট্যুরিজমের ওপর পড়তে পারে। অন্যদিকে, সংকট নিরসনে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন এবং পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম আশ্বস্ত করে বলেছেন, মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না এবং কারিকুলামের নিয়মের ভেতরে থেকেই শিক্ষার্থীদের কোনো একটি জেনারেল হাসপাতালের সাথে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিশেষ লজিস্টিক প্রটোকলে যুক্ত করার আইনি পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক রেগুলেশনের সাথে এই পদক্ষেপের আইনি সামঞ্জস্য কীভাবে বিধান করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।