দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর টাঙ্গাইল জেলা শহরে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা একটি আকস্মিক ঝটিকা মিছিল বের করেছেন। রোববার (২১ জুন, ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের ব্যস্ততম ভিক্টোরিয়া রোডের পোস্ট অফিস মোড় এলাকা থেকে এই আকস্মিক বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মিছিলটি শহরের মূল সড়ক প্রদক্ষিণ করে দ্রুত বড় কালীবাড়ি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। দেশের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের ঝটিকা মিছিল ও আকস্মিক শোডাউন স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা উত্তেজনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বাজার ব্যবসায়ীদের বরাতে জানা যায়, অত্যন্ত সুকৌশলে ও আকস্মিকভাবে আয়োজিত এই সংক্ষিপ্ত মিছিলে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং এর ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। মিছিলকারীরা এ সময় দলটির শীর্ষ নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’—এমন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও উসকানিমূলক স্লোগান দেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধ তৈরি হওয়ার আগেই মিছিলকারীরা বড় কালীবাড়ি মোড়ে গিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ছত্রভঙ্গ হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
নিষিদ্ধ সংগঠনের এই আকস্মিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, “আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের বিশেষ টহল দল ও থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল এবং এর আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মিছিলকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে সরাসরি কাউকে আটক বা পাওয়া যায়নি।” বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন একটি আইনবহির্ভূত ঝটিকা মিছিলের পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করতে শুরু করেছে। ওসি রুহুল আমিন আরও জানান, দেশের আইন অমান্য করে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে এই ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণকারী ও পরিকল্পনাকারীদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের অপচেষ্টার অপরাধে তাঁদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।



