― Advertisement ―

সুইজারল্যান্ডে কাল ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক বৈঠক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি তথা সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের পর তার বাস্তবায়নে প্রথম ধাপে প্রত্যক্ষ আলোচনার টেবিলে বসছে দুই বৈরী পক্ষ। সুইজারল্যান্ডের লাসার্ন হ্রদ সংলগ্ন বুর্গেনস্টক পর্বত রিসোর্টে আগামী শুক্রবার (১৯ জুন, ২০২৬) তেহরান ও ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই প্রাথমিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এফডিএফএ) এক বিশেষ অফিশিয়াল বিবৃতিতে এই তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, পূর্বনির্ধারিত কূটনৈতিক ছক অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি এই শান্তি প্রক্রিয়ার প্রধান দুই মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র—পাকিস্তান ও কাতারের বিশেষ দূতরা বুর্গেনস্টকের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের প্রতিনিধি দলও এই আলোচনায় অংশ নেবে। মূলত প্রথম দফার এই প্রাথমিক সংলাপে সদ্য স্বাক্ষরিত ১৪ দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রাথমিক ধারাগুলোর সফল ও টেকসই বাস্তবায়ন এবং একটি ব্যাপকভিত্তিক চূড়ান্ত চুক্তির রূপরেখা বা রোডম্যাপ নিয়ে বিস্তারিত কৌশলগত আলোচনা হবে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভার্চুয়াল প্রক্রিয়ায় একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করার পর এই ফলো-আপ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সুইস সরকার স্পষ্ট করেছে যে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানামুখী জল্পনা-কল্পনা থাকলেও এখন পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক এই শীর্ষ বৈঠকের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা সংশোধনী আনা হয়নি। মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর যৌথ ঐকমত্যের ভিত্তিতেই বুর্গেনস্টক রিসোর্টকে বৈঠকের মূল ভেন্যু হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে, কারণ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই পাহাড়ি অঞ্চলটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম।

রয়টার্স ও এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রাথমিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে আগামী ৬০ দিনের একটি জটিল কূটনৈতিক দরকষাকষির প্রক্রিয়া শুরু হবে। যেখানে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-যান চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম মজুদের ভাগ্য নির্ধারণের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জটিল আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সুইজারল্যান্ড এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ না করলেও নিরপেক্ষ ‘ফ্যাসিলিটেটর’ বা সহায়তাকারী দেশ হিসেবে উভয় পক্ষের জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও ব্যবহারিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করছে।