― Advertisement ―

ইউএস-ইরান শান্তিচুক্তির ফলশ্রুতিতে ৩ মাসে এই প্রথম ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে পতন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি ও যুদ্ধবিরতির খবরের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিরসনে দুই দেশের স্থায়ী সমঝোতার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেলপ্রতি মনস্তাত্ত্বিক ৮০ ডলারের সীমা ভেঙে নিচে নেমে গেছে। গত ৩ মার্চের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে এটিই জ্বালানি তেলের সর্বনিম্ন দরপতন। বিশ্ববাজারের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, আগামী শুক্রবারের মধ্যে এই শান্তিচুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমূজ প্রণালিকে পুনরায় উন্মুক্ত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

ট্রেডিং ডেটার বিবরণ অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৯৬ ডলারে থিতু হয়েছে, যা এর আগের কার্যদিবসেও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বাজার রেকর্ড পরিমাণে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছিল। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও মধ্যস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি অন্তত ১৫ ডলার হ্রাস পেয়েছে। এই নাটকীয় পতন বিশ্ব অর্থনীতির উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বন্ড মার্কেটের ওপর থাকা চাপ অনেকটাই কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

সমঝোতার প্রাথমিক অগ্রগতির পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে কার্যকর হতে শুরু করেছে। তেহরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তাদের তিনটি বিশাল তেলের ট্যাংকার বর্তমানে উত্তর ভারত মহাসাগরে কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করছে। এ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং গবাদি পশুর খাদ্যবাহী আরও দুটি কার্গো জাহাজ দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত বন্দরগুলোর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর সমুদ্রপথ অবরোধ শিথিল হওয়ার এই সুনির্দিষ্ট খবরটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোতে আসার পরপরই ওপেক (OPEC) প্লাস দেশগুলোর তেল সরবরাহের ওপর থাকা দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি প্রিমিয়াম এক ধাক্কায় উবে যায়।

এদিকে বিশ্ববাজার চুক্তিটিকে ইতিবাচকভাবে নিলেও হরমূজ প্রণালি আগামী শুক্রবারের মধ্যে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন অতি-আশাবাদের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারছেন না তাঁর ইউরোপীয় মিত্ররা। জি-৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের মতো এতটা নিশ্চিত হতে পারছেন না বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। শিপিং সংস্থাগুলোও সতর্ক করেছে যে, যুদ্ধোত্তর সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক ট্যাংকার চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে। তবে এই কূটনৈতিক সংশয় সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে শান্তি ও বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতার সম্ভাবনাকেই বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন।