― Advertisement ―

‘নিষ্প্রভ’ কেইনের কাঁধে সতীর্থদের আস্থার হাত

বুন্ডেসলিগায় গোলের পর গোল করে ইউরোতে খেলতে এসে নিজেকে যেন খুঁজে ফিরছেন হ্যারি কেইন। টুর্নামেন্টে এখনও দেখা যায়নি তার সেরা চেহারা। তবে এনিয়ে একদমই...

এক ম্যাচে ব্রাজিলের নজিরবিহীন ৮ লাল কার্ড!

নারী আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবলের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সময় গত বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) সকালে ব্রাজিলের ফর্তালেজায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক ব্রাজিল। তবে ম্যাচের ১-০ গোলের জয়-পরাজয়ের সমীকরণ ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন মূল আলোচনায় স্প্যানিশ রেফারি পাওলা সেবোয়াদা লোপেসের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার এক বিস্ময়কর প্রদর্শনী। মাঠের চরম বিশৃঙ্খলা, অসদাচরণ এবং রেফারির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার জেরে ব্রাজিলের প্রধান কোচ আর্থুর ইলিওসসহ ৪ জন কোচিং স্টাফ এবং দলের ৪ জন গুরুত্বপূর্ণ নারী ফুটবলারকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই ম্যাচে একটি দলের মোট ৮ জন সদস্যের এমন বহিষ্কারের ঘটনা আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিরল।

আগামী বছর ব্রাজিলের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফা নারী বিশ্বকাপ। সেই আসরের অন্যতম ভেন্যু ফর্তালেজার স্টেডিয়ামে এদিন ৫৫ হাজারেরও বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপভোগ করার জন্য। কিন্তু ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৭৭তম মিনিটে জার্সির রঙ সংক্রান্ত জটিলতার জেরে প্রথমে হলুদ কার্ড এবং পরে বল লাথি মেরে দূরে সরিয়ে দেওয়ায় ব্রাজিলের প্রধান কোচ ইলিওসকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। কোচের এই বহিষ্কারের পর মাঠের পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রেফারির সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ করায় ডাগআউটে থাকা ব্রাজিলের আরও ৩ জন সহকারী কোচিং স্টাফকে একে একে লাল কার্ড দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন স্প্যানিশ রেফারি লোপেস।

ম্যাচের মূল ৯০ মিনিট পার হয়ে যোগ করা সময়ে এবং শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের এই বিশৃঙ্খলা চরম রূপ নেয়। অতিরিক্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডার এমিলি সনেটকে ধাক্কা দেওয়ার অপরাধে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড বিয়া জানেরাত্তো। এর কিছুক্ষণ পরই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কনুই দিয়ে আঘাত করার অপরাধে সরাসরি লাল কার্ড পান ডিফেন্ডার তার্সিয়ানি। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর রেফারির ওপর চড়াও হয়ে অসদাচরণ করায় ফরোয়ার্ড কেরোলিন এবং ব্যঙ্গাত্মকভাবে রেফারির উদ্দেশ্যে হাততালি দেওয়ার কারণে ফরোয়ার্ড লুদমিলা লাল কার্ডের শিকার হন। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, রেফারি ও ম্যাচ অফিশিয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দাঙ্গা পুলিশ মাঠে প্রবেশ করে তাঁদের কর্ডন করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরা রেফারিং এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) প্রযুক্তির অকার্যকারিতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। মিডফিল্ডার আঞ্জেলিনা অভিযোগ করেন, ভিএআর কাজ না করায় যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের মারাত্মক ফাউলগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ফোর্থ রেফারি মাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। অন্যদিকে, ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড মার্তা সরাসরি রেফারি লোপেসকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, তিনি ফুটবলকে ছাপিয়ে নিজেই ম্যাচের মূল আকর্ষণ হতে চেয়েছিলেন। লাতিন আমেরিকার ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল (CONMEBOL) এবং ফিফা এই গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে, যার ফলে আগামী বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।