― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

পুরো ব্যাংক খাতে ছড়াচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের অস্থিরতার প্রভাব

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-তে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতা এবং এর ফলে পুরো ব্যাংক খাতে সম্ভাব্য পদ্ধতিগত ঝুঁকির (Systemic Risk) আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সাথে ব্যাংকার্স সভার নির্ধারিত আলোচ্যসূচির বাইরে শীর্ষ ব্যাংকাররা এই সংকট নিয়ে বিশেষ আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি একক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; দেশের বৃহত্তম ব্যাংকের তারল্য ও ব্যবস্থাপনা সংকট পুরো আর্থিক খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা দেশের ব্যাংকারদের গভীরভাবে চিন্তিত করেছে।

গভর্নরের সাথে আলোচনার বিশদ বিবরণ দিয়ে মাসরুর আরেফিন স্পষ্ট করেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পরিস্থিতিকে কেবল একটি সাধারণ ব্যাংকিং জটিলতা হিসেবে দেখছে না, বরং এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক ও কৌশলগত ডাইনামিকস জড়িত রয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে একটি টেকসই সমঝোতার মাধ্যমে এই সংকট দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবিবি চেয়ারম্যান জোর দিয়ে বলেন, দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের প্রতি সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বাজারে চলমান আমানত উত্তোলনের অস্বাভাবিক চাপ সামাল দিতে হলে একটি দ্রুত ও স্বচ্ছ সমাধান অপরিহার্য। বিলম্বিত সমাধান দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতিকে ব্যাহত করতে পারে।

সংকটকালীন এই মুহূর্তে দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর অত্যন্ত কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বাহ্যিক বা রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) খেলাপি ঋণসহ গ্রাহকদের আমানতের সঠিক ও নিখুঁত তথ্য সময়মতো আপলোড করার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাজারে মূলধন ও ঋণের তারল্য প্রবাহ সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকারদের পূর্ণ নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

সামগ্রিক আর্থিক খাতের তারল্য সংকট কাটানোর পাশাপাশি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্রণোদনা বা বিশেষ তহবিল গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিশাল তহবিলটি মূলত দেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) মধ্যে ঋণসহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন (Refinance) কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত হবে। এছাড়া দেশের জাতীয় হিসাব-নিকাশের ত্রুটি দূর করতে আমদানি ও রপ্তানি সংক্রান্ত ডেটা পাঠানোর ক্ষেত্রে বিলম্ব ও ভুল সংশোধন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে মূল্যের সামঞ্জস্য রক্ষার্থে গ্লোবাল ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম যাচাই করে ঋণপত্র (LC) খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আন্ডার বা ওভার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে দেশের মূলধন পাচার রোধ করা সম্ভব হয়।