বাংলাদেশের ও ব্রুনাইয়ে ব্যাবসায়িক সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান ও নৌ যোগাযোগের অভাব ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং সময়ক্ষেপণ ঘটাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মাঝে ব্যাবসা বিষয়ক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
ঢাকায় ব্রুনাই হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রোজাইমি আবদুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিনের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন ধর্মীয় বন্ধনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক এখন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আরও গভীর ও কৌশলগত রূপ নিচ্ছে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, শুধু শ্রমবাজারে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্রুনাই এখন বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং আশিয়ান অঞ্চলে প্রবেশের একটি কার্যকর দ্বার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বিশাল উৎপাদন সক্ষমতা ও তরুণ জনশক্তি ব্রুনাইয়ের অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করছে। সময় এসেছে দুই দেশকে প্রচলিত বাণিজ্যিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক জোটে রূপ দেওয়ার।
বিশেষজ্ঞরা বলেন,বর্তমানে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা চারটি প্রধান খাতে বিস্তৃত। জ্বালানি খাতে ব্রুনাই বাংলাদেশের জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শ্রমবাজারে ২৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী ব্রুনাইয়ে কাজ করছেন। যদিও এখন দক্ষ জনশক্তি, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রকৌশল খাতে—নিয়োগের দিকে ঝোঁক বাড়ছে। এছাড়া হালাল অর্থনীতি দুই দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে। বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা এবং ব্রুনাইয়ের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ব্রুনাই হালাল’ ব্র্যান্ড একত্রে বৈশ্বিক মুসলিম বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি কৃষি ও ব্লু ইকোনমি খাতে গভীর সমুদ্র মাছ ধরা, মৎস্য চাষ ও চুক্তিভিত্তিক কৃষি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে।
এছাড়া বাজারসংক্রান্ত তথ্য ও নীতিমালা সম্পর্কে ব্যবসায়ী মহলে ঘাটতি রয়েছে। রপ্তানি পণ্যে শুল্ক বাধাও একটি বড় সমস্যা, যা দূর করতে একটি প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) জরুরি বলে মনে করছেন। এই প্রেক্ষাপটে সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে কয়েকটি কৌশলগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্রুনাইয়ের বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট প্লট বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেট্রোকেমিক্যাল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে।



