― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও দুর্নীতির পাহাড়: মনপুরা থেকে লাপাত্তা পিআইও বিজন

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এর মূলে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বিজন কৃষ্ণ খরাতী। চেক জালিয়াতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে তিনি গত দুই সপ্তাহ ধরে রহস্যজনকভাবে কর্মস্থল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। কোনো প্রকার ছুটি বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তার এই দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কাজগুলো এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আবু মুছা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বিজন কৃষ্ণ খরাতী গত ১৫ দিন ধরে অফিসে আসছেন না। তার সাথে যোগাযোগের সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি তার ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল নম্বরই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং আইনগত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির জাল অনেক গভীরে বিস্তৃত। ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহিদের কাছ থেকে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। ব্যাংক থেকে টাকা না পেয়ে ওই ব্যবসায়ী বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। ২০২৪ সালে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও তিনি বারবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজাদ রহমানের দাবি, বিজন কৃষ্ণ কেবল একজন ব্যবসায়ীর সাথেই নয়, বরং নলছিটির অনেক সাধারণ মানুষের বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। শিবেশ্বর রায়, কায়কোবাদ ও মাইনুল ইসলাম নামের আরও তিন ব্যক্তির দায়ের করা চেক জালিয়াতি মামলার প্রধান আসামি এই সরকারি কর্মকর্তা। এমনকি সরকারি চাকরি ও কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে সরকারি আবাসন প্রকল্প নিয়ে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে নলছিটিতে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ১২৮টি ঘরের বরাদ্দ এলেও বিজন ৫৫টি ঘর নির্মাণ না করেই পুরো টাকা পকেটে ভরেন। বিভাগীয় কমিশনারের তদন্তে এই ভয়াবহ অনিয়ম ধরা পড়লে তাকে ১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে টাকা জমা দিলে ২০২৩ সালে তাকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।

এমন কলঙ্কিত রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিজন কৃষ্ণ খরাতী মনপুরা উপজেলায় নতুন করে দায়িত্ব পান। কিন্তু এখানে যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই পুরনো মামলার ওয়ারেন্ট কার্যকর হওয়ার ভয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। ইউএনও মোঃ আবু মুছা জানিয়েছেন, নলছিটি থেকে অনেক পাওনাদার তার কাছে খোঁজ নিচ্ছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বিজন গ্রেফতার হওয়া মাত্রই তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বর্তমানে পিআইও অফিসে গিয়েও তার দেখা পাওয়া সম্ভব হয়নি। তার আকস্মিক নিরুদ্দেশ হওয়ায় উপজেলার টিআর, কাবিখাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের নথিপত্রে সই করার লোক নেই। ফলে থমকে গেছে জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত তার গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।