চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী এলাকায় অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয় থেকে নরেন ধর (৩৮) নামের এক প্রটোকল অফিসারের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে, ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাইকমিশন প্রাঙ্গণ থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। একজন কূটনৈতিক মিশনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধারের এই ঘটনায় স্থানীয় কূটনৈতিক পরিমণ্ডল এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, আজ সকাল থেকেই খুলশী এলাকার ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সামনে সাধারণ সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে এক ধরনের কৌতূহল ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে একটি বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রটোকল অফিসারের মরদেহটি সেখান থেকে চমেক হাসপাতালের দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
ঘটনার সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া ও জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, নিহত নরেন ধর ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রটোকল অফিসার হিসেবে চুক্তিভিত্তিক বা স্থায়ীভাবে কর্মরত ছিলেন। সকালে হাইকমিশন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বার্তা পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। তবে এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু, দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে—সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি।
কূটনৈতিক জোনে এমন মৃত্যুর ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে কোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অপরাধমূলক আলামত জব্দ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সিএমপির ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চমেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ময়নাতদন্তের (Autopsy) চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অন্যদিকে, স্পর্শকাতর এই কূটনৈতিক বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মিশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।



