ক্রিকেটীয় রোমাঞ্চ আর অনিশ্চয়তার দোলাচল পেরিয়ে অবশেষে ঢাকায় পা রেখেছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। রোববার (৮ মার্চ ২০২৬) ভোরে শাহীন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে পাকিস্তানের পূর্ণশক্তির দলটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আগেই দলের পাঁচজন কোচিং স্টাফ ঢাকায় পৌঁছেছিলেন, এবার মূল বহর যোগ দেওয়ায় মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেটে আবারও ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ক্রিকেটীয় উত্তাপের আমেজ ফিরে আসছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউন শুরু হলো।
আসন্ন এই সিরিজে দুই দল মোট তিনটি ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হবে। আগামী ১১ মার্চ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ মার্চের মধ্যে ওয়ানডে সিরিজের তিনটি ম্যাচ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সূচি অনুযায়ী শুরুতে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সফর হওয়ার কথা থাকলেও পাকিস্তান সুপার লিগের (PSL) সময়সূচির কারণে সফরের কলেবর কিছুটা ছোট করা হয়েছে। বর্তমান সূচিতে কেবল ওয়ানডে সিরিজটি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজটি এই দফা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মূলত পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার এই লড়াইটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমান সফরে কেবল ওয়ানডে সিরিজ খেলেই দেশে ফিরে যাবেন শাহীন আফ্রিদিরা। এরপর আগামী মে মাসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আবারও বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে দলটির। ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতর সংস্করণ টি-টোয়েন্টি এই সফর থেকে বাদ পড়ায় ভক্তদের মধ্যে কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও ওয়ানডে সিরিজের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার অপেক্ষায় রয়েছেন সমর্থকরা।
তবে এই সিরিজের পেছনে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ ছিল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি। বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতার ছায়ায় সিরিজটি বাতিল বা স্থগিত হওয়ার জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) নিবিড় যোগাযোগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাসে সব মেঘ কেটে গেছে। কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে এই ওয়ানডে সিরিজ, যা ক্রিকেটীয় কূটনীতি ও ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।



