ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আগুনের লেলিহান শিখা এবার গ্রাস করল প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দে প্রকম্পিত, ঠিক তখনই বিদেশের মাটিতে জীবিকার সন্ধানে যাওয়া দুই বাংলাদেশির নিথর দেহ ফেরার অপেক্ষায়। সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক শোকাবহ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে যে, এই সংঘাতের বলি হয়েছেন দুই বাংলাদেশি এবং আহত হয়েছেন আরও সাতজন। মৃতদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর দেশের গ্রামগুলোতে এখন কান্নার রোল।
নিহতদের একজন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ তারেক। বাহরাইন প্রবাসী তারেক যখন নিজের কর্মস্থলে ছিলেন, তখনই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে যায়। একই ঘটনায় আরও তিনজন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সিলেটের বড়লেখার বাসিন্দা সালেহ আহমেদ প্রাণ হারিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে। আকাশ থেকে খসে পড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সরাসরি তাঁর ওপর আছড়ে পড়লে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। হাজার মাইল দূরে থাকা এই দুই পরিবারের স্বপ্ন আজ ধূলিসাৎ।
শুধু প্রাণহানি নয়, ড্রোন হামলার শিকার হয়ে কুয়েতে আহত হয়েছেন আরও চার বাংলাদেশি। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আমিনুল ইসলাম, পাবনার রাবিউল ইসলাম, নোয়াখালীর মাসুদুর রহমান এবং কুমিল্লার দুলাল মিয়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশি দূতাবাস জানিয়েছে, তাঁদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশির নিরাপত্তা এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বিদেশের মাটিতে প্রিয়জন হারানোর এই সংবাদ বাংলাদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিটি প্রবাসীকে স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা মেনে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসকে নির্দেশ দিয়েছে যেন প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা চব্বিশ ঘণ্টা সক্রিয় থাকে। এই যুদ্ধের অবসান না হওয়া পর্যন্ত প্রবাসীদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে চরম উৎকণ্ঠায়, আর দেশবাসী প্রার্থনা করছে যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।



