আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ যেন প্রতিটি শ্রমিকের ঘরে পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর সরকার। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এমনটাই আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ঈদের ছুটির আগেই দেশের প্রতিটি শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের মনে ঈদের খুশির আমেজ ছড়িয়ে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সভায় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ব্যক্তিগত পর্যায়ে কর বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বরং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে জিডিপির তুলনায় করের অনুপাত (Tax-GDP Ratio) বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রমজান মাসে বাজার পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং পণ্যের অহেতুক দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। এছাড়া এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বন্ধ থাকা শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে সুখবর দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, এক মাসের মধ্যেই এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। এদিকে নদী খনন ও হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনসাধারণের স্বার্থে নদী ও খাল খনন কাজ সরকার নিজে পাহারা দিয়ে সম্পন্ন করবে। বন্যার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিলেট অঞ্চলে নতুন প্রকল্প নেওয়ার পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনেও আলোচনা চলছে। এই তিন মন্ত্রীর সমন্বিত এই সফর ও প্রতিশ্রুতি সিলেটসহ সারা দেশের মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।



