― Advertisement ―

এফবিআই-তে ‘শুদ্ধি অভিযান’: ট্রাম্পের নথি তদন্তকারী এজেন্টদের গণহারে বরখাস্ত

মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই-এর অন্দরে বইছে পরিবর্তনের তীব্র ঝড়। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সংস্থাটির অন্তত ১০ জন অভিজ্ঞ এজেন্টকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই এজেন্টদের অপরাধ বা দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁদের অতীত কাজের রেকর্ড। বরখাস্ত হওয়া এই কর্মকর্তারা সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডাস্থ মার-এ-লাগো রিসোর্টে সংরক্ষিত গোপন নথি সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তদন্তের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, গত এক বছরে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের নেতৃত্বে চলা প্রশাসনিক রদবদলের এটি একটি বড় অংশ।

এই পদক্ষেপকে অনেকেই প্রশাসনের প্রতি ‘আনুগত্য পরীক্ষার’ অংশ হিসেবে দেখছেন। কাশ প্যাটেল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এমন কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যারা বিগত দিনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলা বিভিন্ন তদন্তে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। শুধুমাত্র এফবিআই নয়, মার্কিন বিচার বিভাগ থেকেও একাধিক প্রসিকিউটরকে বিদায় করা হয়েছে। এই রদবদল ব্যুরোর দীর্ঘদিনের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টার তদন্তে যুক্ত থাকা এজেন্টদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।

এই গণ-বরখাস্তের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এফবিআই এজেন্টদের সংগঠন ‘এফবিআই এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’। এক বিবৃতিতে তারা এই প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’ এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক কারণে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ায় ব্যুরোর প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা নষ্ট হচ্ছে এবং নতুন নিয়োগ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশি-বিদেশি অপরাধ দমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে, এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এই রদবদলকে ন্যায়সঙ্গত বলে দাবি করছেন। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী বাইডেন প্রশাসনের সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর এবং বর্তমান হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের ব্যক্তিগত ফোন রেকর্ড তলব করা হয়েছিল। রাজনৈতিক মেরুকরণের এই লড়াইয়ে এফবিআই এখন দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে যেমন পুরোনো মামলার নথি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের ক্ষমতার অলিন্দে শুরু হওয়া এই ‘শুদ্ধি অভিযান’ মার্কিন বিচারব্যবস্থায় এক নতুন এবং বিতর্কিত নজির স্থাপন করল।