বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর মাদক সম্রাট নেমেসিও ওসেগুয়েরা সেরভান্তেস ওরফে ‘এল মেনচো’র সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে। মেক্সিকোর জালিস্কোতে পরিচালিত এই সফল অপারেশনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি তথ্য সহায়তা দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সীমান্তপারের ত্রাস হিসেবে পরিচিত এই সিজেএনজি (CJNG) প্রধানের মৃত্যু আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লিভিট এক বার্তায় জানান, মেক্সিকান বাহিনীর সঙ্গে সুনিবিড় সমন্বয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান সম্ভব হয়েছে।
নিহত এল মেনচো ছিলেন ‘জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল’-এর প্রধান। তাঁর নির্দেশে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ রক্তপাত এবং মাদক পাচার হয়েছে, তা আধুনিক অপরাধ জগতের ইতিহাসে বিরল। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো—উভয় দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেই তিনি ছিলেন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার শীর্ষে। মেক্সিকোর তালপালপা এলাকায় যখন অভিযানটি শুরু হয়, তখন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন এর পেছনে হয়তো বড় কোনো বিদেশি শক্তির ইন্ধন রয়েছে। লিভিটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এর পোস্ট সেই জল্পনাকেই বাস্তবে রূপ দিল। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা এখন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তবে অভিযানের কলাকৌশল নিয়ে হোয়াইট হাউস অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখেছে। মার্কিন গোয়েন্দারা ঠিক কতটা সরাসরি এই অভিযানে যুক্ত ছিল কিংবা কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এল মেনচোর এই মৃত্যু কেবল একটি কার্টেলের পতন নয়, বরং এটি লাতিন আমেরিকার মাদক সিন্ডিকেটগুলোর জন্য এক কঠোর হুঁশিয়ারি। যদিও অভিযানের বিস্তারিত এখনও কুয়াশাচ্ছন্ন, তবুও যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর এই ‘যৌথ মিশন’ আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।



