― Advertisement ―

কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েই নিখোঁজ; ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা গোয়ানিপাকে অপহরণ

ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ আট মাস কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানী কারাকাস থেকে অপহৃত হয়েছেন দেশটির প্রভাবশালী বিরোধী নেতা জন পাবলো গোয়ানিপা। বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো এই খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কারাকাসের লস চোরোস এলাকায় বেসামরিক পোশাকে আসা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে। চারটি গাড়িতে করে আসা এই আক্রমণকারীরা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। মাত্র কিছুক্ষণ আগেই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে পরিবারের কাছে ফেরার কথা ছিল তাঁর, কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিয়েছে।

গোয়ানিপার রাজনৈতিক দল ‘জাস্টিস ফার্স্ট’ এই ঘটনার জন্য সরাসরি সরকারকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, সরকারি মদতপুষ্ট বিশেষ বাহিনী এই অপহরণকাণ্ড ঘটিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, গোয়ানিপার কোনো শারীরিক ক্ষতি হলে তার দায়ভার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজসহ সরকারের শীর্ষ তিন ব্যক্তিকে বহন করতে হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করায় গোয়ানিপার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তাকে মুক্তি দিলেও এই রহস্যজনক অন্তর্ধান ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আবারও বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছে।

এই ঘটনায় ভেনেজুয়েলার মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফোরো পেনাল নামক একটি সংস্থা জানিয়েছে, রবিবার অন্তত ৩০ জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হলেও গোয়ানিপার নিখোঁজ হওয়া সেই পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে নিখোঁজ বা গুমের এই কৌশল ভেনেজুয়েলা সরকারের একটি পুরনো অস্ত্র। গোয়ানিপার পরিবারের সদস্যরা যেখানে তাঁর মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন, সেখানে এই অপহরণের খবর আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। এখন সবার নজর কারাকাসের বর্তমান প্রশাসনের ওপর—তারা কি এই দায় স্বীকার করবে, নাকি বিরোধী নেতার কোনো হদিস মিলবে?