― Advertisement ―

৩১ প্রাণ কেড়ে নিল আত্মঘাতী হামলা: পাকিস্তানের পাশে থাকার অঙ্গীকার চীনের

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই বর্বরোচিত হামলার পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই নৃশংস ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসলামাবাদকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে চীন বলেছে, পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তারা সবসময় বন্ধুপ্রতীম দেশটির পাশে থাকবে। মূলত গত এক দশকের মধ্যে ইসলামাবাদে এটিই সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের সময় এক আত্মঘাতী হামলাকারী প্রথমে মসজিদের প্রবেশপথে অতর্কিত গুলি চালায় এবং পরে ভেতরে ঢুকে নিজেকে উড়িয়ে দেয়। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ইতিমধ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। হামলার ভয়াবহতা এতই বেশি ছিল যে, এটি শুধু পাকিস্তান নয় বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে পুরো শহরজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার সময়কাল ও স্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামাবাদের মতো সুরক্ষিত এলাকায় এমন হামলা প্রমাণ করে যে, উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো আবারও তাদের শক্তি সঞ্চয় করছে। চীনের এই অকুণ্ঠ সমর্থন পাকিস্তানের মনোবল বাড়ালেও, দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেইজিংয়ের এই সমর্থনের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো যে, যেকোনো সংকটে পাকিস্তান ও চীনের কৌশলগত সম্পর্ক কতটা গভীর।