দেশের বৃহত্তম গ্যাস উৎপাদনকারী অঞ্চল হওয়ার পরও তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে কাউতলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে সাধারণ গৃহিণী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা বৈষম্যের প্রতিবাদ জানান। আন্দোলনকারীদের দাবি—যে জেলার মাটি থেকে উত্তোলিত গ্যাস দিয়ে সারাদেশ সচল থাকছে, সেই জেলার মানুষকেই রান্নার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলার সামনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
কর্মসূচিতে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, নিয়মিত বিল পরিশোধ সত্ত্বেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়া চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। জনদুর্ভোগের খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন দে এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সংকট নিরসনের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছাড়েন।
স্থানীয় গৃহিণীদের অভিযোগ, দিনের অধিকাংশ সময় চুলা জ্বলে না, ফলে সন্তানদের খাবার জোগাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাস সংকটের কারণে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং সিলিন্ডারের উচ্চমূল্যে তাদের উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
তথ্যমতে, দেশের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশই যোগান দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৭টি সক্রিয় কূপ। অথচ বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটি ও সরবরাহে ঘাটতির কারণে খোদ উৎপাদনস্থলের বাসিন্দারাই জ্বালানি সংকটের শিকার হচ্ছেন।



