ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। দেশটির কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ জানান, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ রোধ করা।
এ সিদ্ধান্তের ফলে গত তিন বছরে অনুমোদিত বসতির সংখ্যা দাঁড়াল ৬৯টিতে। জাতিসংঘ সম্প্রতি জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মন্ত্রিসভার বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের প্রস্তাব অনুযায়ী ‘জুদিয়া ও সামারিয়া’ এলাকায় ১৯টি নতুন বসতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তবে সিদ্ধান্তটি কবে গৃহীত হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
নিজে একজন বসতিবাসী স্মোট্রিচ বলেন, “ভূমিতে আমরা একটি ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকিয়ে দিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের ঐতিহ্যবাহী ভূমিতে বসতি গড়ে তুলতে থাকব।”
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইসরায়েলের ‘অবিরাম’ বসতি সম্প্রসারণের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের জমিতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
একটি জাতিসংঘ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে প্রতিবছর গড়ে ১২,৮১৫টি নতুন আবাসন ইউনিট যুক্ত হয়েছে—যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
পূর্ব জেরুজালেম বাদ দিয়ে পশ্চিম তীরে বর্তমানে পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করে, পাশাপাশি প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। নতুন অনুমোদিত ১৯টি বসতির মধ্যে পাঁচটি আগে থেকেই ছিল, তবে ইসরায়েলি আইনে বৈধতা পায়নি। এছাড়া উত্তরের গ্যানিম ও কাদিম—এই দুই বসতি দুই দশক আগে ভেঙে ফেলা হয়েছিল, যা আবার পুনঃস্থাপন করা হবে।
আন্তর্জাতিক আইনে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সব বসতিকেই অবৈধ ধরা হয়। তবে অনেক অবৈধ আউটপোস্ট পরবর্তীতে ইসরায়েল সরকার বৈধতা দেয়, যা অঞ্চলটি আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত করার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীর সংযুক্ত করার বিষয়ে ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, এমন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারাতে পারে ইসরায়েল।
১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেখানে সহিংসতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় পশ্চিম তীরে অন্তত ১,০২৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অপরদিকে ইসরায়েলি তথ্য মতে, একই সময়ে ৪৪ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।



