― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

অবকাঠামো উন্নয়নে নজর, শিক্ষার মানোন্নয়নে নেই কার্যকর উদ্যোগ

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নজর না দিয়ে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নে নজর দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও শ্রেণিকক্ষ নির্মাণে সম্প্রতি প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের মোট তিনটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক কারিকুলাম প্রণয়নসহ সামগ্রিক প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নজর না দিয়ে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলে তা টেকসই হবে না। শুধু অবকাঠামো শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত তিনটি প্রকল্পের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পে ১৪ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা, ১০টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ২ হাজার ৬১৭ কোটি এবং জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ১৪ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে।

প্রকল্পগুলোর প্রস্তাব অনুযায়ী এ অর্থের পুরো জোগান আসবে সরকারের রাজস্ব খাত থেকে। বর্তমানে এসব প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশন যাচাই-বাছাই করছে বলে জানা গেছে।

ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা বা দাতা দেশগুলো থেকে সহজ শর্তে ঋণ বা অনুদান নিলে সরকারের চাপ কমবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নও টেকসই হবে।

তিনি বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের জন্য শিক্ষকের সংখ্যা, যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো দরকার। শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ ছাড়া শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, ‘রাজস্ব আহরণ দুর্বল হওয়ায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত। তাই অভ্যন্তরীণ তহবিলের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করলে বাজেটে চাপ বাড়বে এবং অন্য খাতে ব্যয় সংকোচন ঘটতে পারে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক যুগে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে দুটি বড় প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। ২০১১ সালে ‘প্রাথমিক শিক্ষায় সব শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা করা’র লক্ষ্য সামনে রেখে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প (পিইডিপি-৩) শুরু করে সরকার।

১৮ হাজার ১৫৩ কোটি ৮৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নেওয়া এ প্রকল্প শেষ হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। বিপুল ব্যয়ের এ প্রকল্প শেষে শিক্ষার্থীদের দক্ষতামানের উন্নতি হবে এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কিন্তু প্রকল্পটি শেষে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার হ্রাস পাওয়া এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া শিক্ষার মানে আর তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম মনে করেন প্রাথমিক শিক্ষায় প্রশাসনিক বিষয়ে মনিটরিং থাকলেও একাডেমিকে কার্যকর মনিটরিংয়ের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বিগত দেড় দশকে শিক্ষা খাতে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেগুলোর বেশির ভাগ ছিল রাজনৈতিক বিবেচনায়। এ কারণে শিক্ষার্থীদের শিখনমান ও দক্ষতার প্রত্যাশিত উন্নয়ন ঘটেনি। অথচ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেনাকাটায় নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।’


তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে দরকার শিখন-শেখানোর গুণগত মানের উন্নয়ন, দক্ষ প্রশিক্ষিত শিক্ষক, আধুনিক কারিকুলাম। কিন্তু এর সবকিছুতেই ঘাটতি আছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নও প্রয়োজন, কিন্তু শুধু অবকাঠামো দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করে মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করে গত রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: বণিক বার্তা