আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সুদানে চলমান সংকট আরো বাড়িয়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি অস্ত্র, গোলাবারুদ, ড্রোনসহ নানা কারিগরি সহায়তা দিয়ে সুদানে গৃহযুদ্ধ ও গণহত্যাকে উস্কে দিচ্ছে বলে দাবি করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সম্প্রতি চীনা ড্রোনসহ নানা ধরনের অস্ত্র সুদানের বিদ্রোহী আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) কাছে সরবরাহ বাড়িয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের গোয়েন্দা বিভাগ এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা চলতি বছর অক্টোবর পর্যন্ত এই অস্ত্র সরবরাহ বৃদ্ধির তথ্য পেয়েছে। এই অস্ত্রগুলো সেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে যাচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে দারফুরে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে।
দেশের ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। সেনাবাহিনী আর প্যারামিলিটারি গ্রুপ র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সেসময় থেকে শুরু হয় সশস্ত্র সংঘাত।
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে সুদানজুড়ে নিহত হয় দেড় লাখের বেশি মানুষ। দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে। প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
গত সপ্তাহে আরএসএফ উত্তর দারফুরের শহর এল-ফাশেরে হামলা চালায়। পরে তারা সেখানকার বেসামরিক মানুষদের হত্যার ভিডিও প্রকাশ করে। আরএসএফের এই অভিযানের খবর প্রকাশিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া শান্তি আলোচনার ভেঙে যাওয়ার পরপরই।
সুদানে এখন যে গৃহযুদ্ধ চলছে, তার শুরুটা হয়েছিল ২০১৯ সালে তিন দশক ধরে প্রেসিডেন্ট থাকা ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার মধ্য দিয়ে। ১৯৮৯ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে সুদানের ক্ষমতায় আসা ওমর আল-বশিরকে পদ থেকে সরাতে ২০১৯ সালে সুদানে বিপুল বিক্ষোভ হয়। তার ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে হটিয়ে দেয়।
দেশের ক্ষমতায় আসে সেনাবাহিনী। তবে সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। বিক্ষোভের মুখে সেনাবাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে সরকার প্রতিষ্ঠা হয়, কিন্তু ২০২১ সালের অক্টোবরে আরেকটি অভ্যুত্থানে ঐ সরকারও ক্ষমতাচ্যুত হয়।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে আরএসএফ সেনাদের সুদানের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তকে সেনাবাহিনী হুমকি হিসেবে দেখে। যার ধারাবাহিকতায় সে বছরের ১৫ই এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়।
কিছুদিনের মধ্যেই আরএসএফের সেনারা রাজধানী খার্তুমের একটা বড় অংশ দখল করে নেয়। সেনাবাহিনী প্রায় দুই বছর পর, ২০২৫ সালের মে মাসে, খার্তুমের দখল ফিরে পায়।
তবে এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, আরএসএফ সুদানের বড় একটি অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে সুদানে আরেকটি সরকার প্রতিষ্ঠা করার দাবি করছে। এর ফলে সুদান দ্বিতীয়বার বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আরএসএফ আরব আমিরাতের কাছ থেকে চীনা ড্রোন ব্যবহার করে সরকার-নিয়ন্ত্রিত বন্দরনগরী পোর্ট সুদানে হামলা চালায়। এতে তুর্কি সেনা বিশেষজ্ঞ দলের কয়েকজন আহত হন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যানুসারে, এখন আরব আমিরাত আরএসএফকে চীনা সরকারি ঠিকাদার ‘চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করপোরেশন’-এর তৈরি ‘রেইনবো সিরিজ’ ড্রোন সরবরাহ করছে।
এর মধ্যে ‘সিএইচ-৯৫’ মডেলের ড্রোন ২৪ ঘণ্টা টানা উড়তে পারে এবং সুনির্দিষ্ট হামলা চালাতে সক্ষম। এটি দূরপাল্লার নজরদারি ও বিমান হামলার জন্য ব্যবহারযোগ্য।



