নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি আমরা জ্ঞান সৃষ্টির আধার হিসেবে গণ্য করি, সেখানে উপযুক্ত গবেষণা থাকতেই হবে। কিন্তু বাংলাদেশে শিক্ষার নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তারা একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যতটা আগ্রহী, গবেষণার বিষয়ে ততটাই অনাগ্রহী।
দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ পায় না, ফলে গবেষণার সংখ্যা ও মান—দু’টিই সীমিত থেকে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে তহবিল ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। যে সামান্য অর্থ তারা গবেষণার জন্য পায়, সেটিও অনেক সময় যথাযথভাবে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দুটি কাজ হচ্ছে শিক্ষাদান এবং শিক্ষাদানের জন্য নতুন নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন। একটিকে বাদ দিয়ে আরেকটি চলে না। এ দুটির জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন গবেষণা। কিন্তু বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় গবেষণার হাল খুবই নাজুক। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা চলছে কচ্ছপ গতিতে।
শিক্ষক ও গবেষকরা বলছেন, জ্ঞানচর্চা ও সমাজের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ধারণা পেতে গবেষণা অপরিহার্য। এটি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সমাজকেও উপকৃত করে। কিন্তু সীমিত বাজেটে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেসব গবেষণা করছে, সেগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানসম্মত নয় এবং সমাজে তার কোনো বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারছে না। সরকারের পক্ষ থেকে গবেষণার জন্য বরাদ্দ ধীরে ধীরে বাড়ানো হলেও, এখনও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
জানা যায়, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১৫১টি বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৬০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো গবেষণার কাজ হয়নি। অর্থাৎ এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা খাতে কোনো বরাদ্দ ছিল না। এছাড়া ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল না কোনো প্রকাশনা। অর্থাৎ এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জার্নালে কোনো প্রবন্ধ, সাময়িকী বা অন্য কোনো গবেষণাপত্র প্রকাশ করেননি।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে গবেষণা খাতে বরাদ্দ ছিল ১৪৪ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ছিল ১৮৮.৬৫ কোটি টাকা। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে এই খাতের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ২.৮৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই খাতে বাজেট ধীরে ধীরে বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় গবেষণায় উন্নতি নেই বললেই চলে।
গত ২৩ বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে অনুষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক ইমরান রহমান। তিনি ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের উপাচার্য। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সামগ্রিকভাবে গবেষণাপত্রের সংখ্যা খুবই কম এবং এগুলো আন্তর্জাতিক মানের নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত গবেষণা অনুদান খুবই অপ্রতুল।’
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের দিক থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির গবেষণার সংখ্যা কম থাকায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বিভিন্ন বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে নীচের অবস্থানে রয়েছে।’
ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এসএমএ ফয়েজ বলেন, ‘গবেষণা না করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উন্নতি সম্ভব নয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গবেষণার জন্য বাজেট বরাদ্দ খুবই কম এবং অপর্যাপ্ত। তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা উচিত,।



