― Advertisement ―

নতুন ধারায় বৈদেশিক সম্পর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই বিপ্লবের আগে গত ১৬ বছর বাংলাদেশ অনেকটা একপেশে বৈদেশিক সম্পর্ক চালিয়ে গেছে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশকে বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছেন।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে নতুন যে সরকার আসবে তাদের অর্থনীতি ও বিদেশনীতি কোন কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার পাবে বা কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে এখনই জানার আগ্রহ প্রকাশ করছেন বিদেশি কূটনীতিকরা।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, চীন ও পাকিস্তানের কয়েকজন কূটনীতিক ভোটের পরবর্তী নতুন সরকারের পাশাপাশি সামরিক ও বেসরকারি প্রভাবশালী মহলগুলোর বৈদেশিক সম্পর্কের অগ্রাধিকারে কী পরিবর্তন হতে পারে, তা বুঝতে তারা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন।

আনুষ্ঠানিক আলাপের পাশাপাশি প্রায় প্রতিদিনই অনানুষ্ঠানিক অনেক বৈঠক হচ্ছে।

কূটনীতিকদের অনেকে মনে করেন, ভোটে জিতে যে দলই নতুন সরকারে আসুক, বৈদেশিক সম্পর্কে ১৬ বছর যে প্রবণতা ছিল, তাতে অনেক পরিবর্তন আসতে পারে।

স্থানীয় কূটনীতিকরা অবশ্য বলছেন, দলগুলো আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে যে ইশতেহার দেবে, তা থেকে হয়তো কিছু ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

আর নির্বাচনের পর নতুন সরকারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হয়, পররাষ্ট্র সচিবসহ বিদেশে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ মিশনগুলোয় রাষ্ট্রদূত পদে কী পরিবর্তন আনা হয়, তা থেকেও ইঙ্গিত মিলবে বৈদেশিক সম্পর্ক কোন পথে চলবে।

সরকারে যেই আসুক, ভূরাজনৈতিক ও বাস্তব কারণে বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের ভারসাম্য বজায় রাখা দরকার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় কূটনীতিকদের বড় একটি অংশ।

পাশের দেশ ভারত ও একটু দূরের দেশ চীনের সঙ্গে ১৬ বছরে দুটি ভিন্নমাত্রার ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলে শেখ হাসিনার সরকার। ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক পর্যায়ে গড়ে ওঠা এ সম্পর্ক অনেকটা মাখামাখিতে গড়ায়, যেটিকে দেশটির নেতারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘সোনালি অধ্যায়’ হিসেবে গণ্য করেন।

এদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গত ১৬ বছর কোনো রকমে টিকে ছিল। শেখ হাসিনার পতনের পরপর দেশটি দ্রুত এ সম্পর্ক ঝালাইয়ে নেমে পড়ে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বহুপক্ষীয় সফরে যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশে ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে বছরখানেক আগে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ শীতল হয়ে যায়। চীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে শুরু থেকেই স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখতে যত্নবান হয়। আর পাকিস্তান সক্রিয় হয় বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকটা সুতোর ওপর টিকে থাকা সম্পর্ক চাঙা করতে। এ কাজে চীনকেও যুক্ত করে পাকিস্তান।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির এ বিষয়ে বলেন, ‘সরকার একটি ধারাবাহিকতা। এই বিবেচনায় নতুন সরকারের জন্য অপেক্ষা জুতসই কিছু নেই। শোভনও মনে হয় না। তবে ভারত হয়তো দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের বিবেচনায় আগামী সরকারের জন্য অপেক্ষা করে থাকতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক ভারসাম্যের চেয়ে অর্থনৈতিক ভারসাম্যের গুরুত্ব বেশি। কারণ ভারত তার অর্থনৈতিক সামর্থ্য দিয়েই প্রতিবেশীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে।