নিজস্ব প্রতিবেদক
শুধু নিম্নবিত্ত নয়, এখন মধ্যবিত্তের নাগালেও নেই ইলিশ মাছ। শুধু বিত্তবানরাই এই জাতীয় মাছের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন।
ইলিশের দাম বরিশালের বাজারে ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার টাকা, ১ কেজির ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকায়, আর আধা কেজি ওজনের ইলিশ ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নগরের চৌমাথা বাজারে গতকাল মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ৩ হাজার ২০০ টাকায় ৮০০ গ্রামের দুটি ইলিশ কিনতে দেখা গেছে এক বেসরকারি চাকরিজীবীকে।
ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ মূলত পাইকারি বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে দাম বাড়ছে। এছাড়া খুচরা বিক্রেতা, প্রতি ধাপে কমিশন ও লাভ যোগ হয়, এতে শেষ পর্যন্ত ক্রেতার ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইলিশের মৌসুম এখন শেষের দিকে। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুচক্রেও এসেছে অস্থিরতা। আষাঢ়-শ্রাবণের বদলে বৃষ্টি নেমেছে শরতে, ইলিশের মৌসুমও সরে এসেছে শরতের দিকে।
জেলেরা বিশ্বাস করেন, এই আবহাওয়ায় গভীর সমুদ্র থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ বেরিয়ে আসবে। আর সেই সুযোগে ইলিশে ভরে ওঠবে তাদের জাল। ভাদ্রের মধুপূর্ণিমা তাই প্রতিবছরই জেলেদের জন্য বিশেষ সময়। তবে কয়েক বছর ধরে আর আগের মতো সেই ‘ইলিশের মচ্ছব’ দেখা যায় না।
মৌসুমে ইলিশ বাজারে এলেও দাম থাকে আকাশছোঁয়া। মূল্যস্ফীতির চাপে যখন সাধারণ মানুষের ডালভাতেই টানাপোড়েন, তখন ইলিশ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। ফলে ক্রেতাদের প্রশ্ন, মৌসুমেও কেন ইলিশের দাম এত বেশি হয়?
বরিশালের খুচরা বাজারে জুন থেকেই ইলিশ পাওয়া যাচ্ছিল। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে (শ্রাবণ-ভাদ্র) সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু দাম কমেনি। জুনেও ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ছিল ৩ হাজার টাকা, ১ কেজির ইলিশ ছিল ২ হাজার ৫০০ টাকায়। এখন সরবরাহ বাড়ার পরও দাম একই রয়ে গেছে।
বাড়তি দামের কারণ হিসেবে মৎস্য খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সমুদ্রগামী মৎস্য খাত সংকটে পড়েছে। ট্রলার পরিচালনা, জেলেদের খোরাকি, বরফ, মজুরি—সব মিলিয়ে ব্যয় বেড়েছে ৭০ শতাংশ। ফলে আহরিত মাছ বিক্রি করে ব্যয় তোলা দুরূহ হয়ে পড়ছে। আর সেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ পড়ছে ক্রেতার ওপরেও।



