নিজস্ব প্রতিবেদক
গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ – ২০২৫’ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। শুধু তাই নয়, মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি কোটি টাকা জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে খসড়ায়।
বহুল আলোচিত গোপন আয়নাঘর (আটককেন্দ্র) স্থাপন ও ব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এই আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
দেশে এরই মধ্যে যেসব গুমের ঘটনা ঘটেছে তার তদন্ত ও বিচার এই অধ্যাদেশের আওতায় আনা হয়েছে।
এ আইনের খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কোনো সদস্য তার নিজ পরিচয়ে কাউকে বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বা সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে গুম করলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে গুমে জড়িত অপরাধী ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ সরকারি-বেসরকারি, সামরিক-বেসামরিক যেই হোক, সবাই শাস্তির আওতায় আসবে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, জরুরি অবস্থা বা অন্য কোনো অজুহাতে কাউকে গুম করা যাবে না।
গুমের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তদন্ত করতে পারবেনা। তদন্ত করবে মানবাধিকার কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র বলছে, খসড়া প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য দ্রুত সময়ে মধ্যেই উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশে এরই মধ্যে যারা গুম হয়েছেন বা হতে পারেন, এমন ব্যক্তি ও তাদের পরিবারকে সুরক্ষা দিতেই নতুন এই অধ্যাদেশ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গুম কমিশনের দ্বিতীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গুমের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন কিছু নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পুরস্কৃতও করা হয়েছে। বাংলাদেশে গুমের সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার জড়িত থাকার প্রমাণও পেয়েছে কমিশন।



