নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের বিলাসী জীবনযাপন করতে দেখেন সাধারণ জনগণ। নেতারা প্রচুর টাকা ব্যয় করে অভিজাত বাড়ি-গাড়ি নিয়ে জীবন কাটান। নেতাদের স্ত্রী-সন্তানেরা এমনভাবে টাকা ব্যয় করে! যেন তাদের টাকার খনি আছে।
কিন্তু সাধারণ জনগণ তাদের এই ব্যয় দেখতে পাড়লেও আয় দেখার সুজোগ নেই। কারণ নেতারা আয়ের উৎস সবসময় থাকে গোপন। তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার বিধাণ থাকলেও এই নিয়ম কেউ কোনদিন মানেনি।
শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি নিজের আয়-ব্যয়ের হিসেব দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে নজির স্থাপণ করেছেন। তিনি, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার দশ দিনের মধ্যে সরকারে থাকা সব উপদেষ্টাদের আয়-ব্যয়ে হিসাব দেওয়ার কথা বলেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা।
এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “ঘটনাটা অনেকটা শেখ হাসিনার মতো হলো। কারণ উনিও উনার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, উনার পুরো যে মন্ত্রিপরিষদ হবে, তাদের তথ্য দিবেন বিত্ত-বৈভব ও আয়ের ব্যাপারে এবং উনি সেটা রক্ষা করেননি,”
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে কত টাকা পাচার করা হয়েছে এবং এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে অন্তর্বর্তী সরকার যে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠন করেছিল, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সেটির নেতৃত্বে ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে দলটির মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যেভাবে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে দেখা গেছে, সেটার বিপরীতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নজির স্থাপন করার সুযোগ ছিল অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে।
“অনেক প্রত্যাশা ছিল যে, বর্তমান সরকার একটা নতুন নজির স্থাপন করবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেটাও হয়নি।’
অথচ ক্ষমতা গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় গত বছরের ২৫শে অগাস্ট সন্ধ্যায় অধ্যাপক ইউনূস জাতির উদ্দেশে প্রথম যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, শিগগিরই তার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা নিজেদের আয় ও সম্পদের বিবরণী জনগণের সামনে প্রকাশ করবেন।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “যদি সম্পদের তথ্য প্রকাশ করা না হয়, তাহলে প্রশ্নটা থেকে যায় যে, কেন লুকানো হচ্ছে? কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না? তাহলে কি লুকানোর কিছু আছে?,”
গত সাড়ে পনের বছর যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা সম্পদের হিসাব দেয়নি। বর্তমানে যারা আছেন, তারাও দিলেননা। ভবিষ্যতে যারা আসবেন, তারা কি সম্পদের হিসাব দিবেন? এই প্রশ্ন দেশের সাধারণ মানুষের। যারা সরকারকে ট্যাক্স দেয়। কিন্তু তারা এ বিষয়ে থাকেন অন্ধকারে।



