নিজস্ব প্রতিবেদক
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর আলোচনায় ছিল সংস্কার ও ‘জুলাই সনদ’। এ নিয়ে ঐকমত্য কমিশন ৬৮ দিন বৈঠক করেও কোন রূপরেখা চুড়ান্ত করতে পারেনি। মতপার্থক্য ও দ্বিধা থাকায় ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো। ফলে নিরুপায় হয়ে কমিশন বিকল্প পাথ খুঁজছে। আর কমিশনের সময় আরো একমাস বাড়ানো হয়েছে।
সংস্কার বাস্তবায়ন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতের অমিল ও দ্বিধা ক্রমশ জটিলাকার ধারণ করছে। সংস্কার ইস্যুতে জুলাই সনদ চূড়ান্ত না হওয়ায় এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আসলে সংকটের মূল কোথায়?
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বলছে, সনদ চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়ন কাঠামো নির্ধারণে তারা আগামী সপ্তাহে আবার রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বসবে। আজ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়া পাঠানো হবে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের দেওয়া মতামত ও পরামর্শ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে জানানো হবে।
কমিশন জানায়, সম্প্রতি ছয়জন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বৈঠকে বিকল্প বাস্তবায়নপথ হিসেবে উঠে এসেছে- গণভোট, সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স মতামত, বিশেষ পরিস্থিতিতে বিশেষ ব্যবস্থা ও অধ্যাদেশ জারি। অনানুষ্ঠানিকভাবেও অনেকের পরামর্শ ও মতামত নেয়া হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অধ্যাদেশে কিছু বাস্তবায়ন সম্ভব হলেও সংসদ অনুমোদন না দিলে তা কার্যকারিতা হারাবে।
এদিকে, কমিশনের সময় বাড়লেও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন কাঠামো ও আইনি ভিত্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না সহসাই। ফলে নির্বাচনের রোডম্যাপ এগোলেও সংস্কার বাস্তবায়নের গন্তব্য এখনো স্পষ্ট নয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এনসিপি বলছে, জুলাই সনদের ভিত্তিতেই হবে আগামীর নির্বাচন। সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন ছাড়া জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হবেনা। আগামী সংসদের হাতে এই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বর্তমান সরকারের সময় থেকেই এই সনদের বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছে দলগুলো।
এদিকে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকী দিয়েছে জামায়াত। দলটি বলছে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করলে হবে না। সনদের আইনি ভিত্তি না থাকলে তা মূল্যহীন হয়ে যাবে।
বিএনপি বলছে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির আলোচনায় ডাকা হলে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে দলটি। জনগণের সার্বভৌম এখতিয়ারের ভিত্তিতেই এই ঘোষণাপত্রকে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এর চাইতে বড় জাতীয় সম্মতি আর নেই।
এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। তারা যে পরামর্শ দেবেন সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবো।
তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত লিগ্যাল মতামত পাইনি। বিশেষজ্ঞ যারা ঐদিন ছিলেন তার বাইরেও অনানুষ্ঠানিকভাবে আমরা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছি।
প্রসঙ্গত, প্রথম দফার আলোচনায় (২০শে মার্চ-১৯শে মে) ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ৬২ বিষয়ে ঐকমত্য হয়। দ্বিতীয় পর্বে (৩রা জুন-৩১শে জুলাই) ৩০ দলের সঙ্গে বাকি ২০টি মৌলিক সংস্কারের মধ্যে ১১টিতে ঐকমত্য ও ৯টিতে নোট অব ডিসেন্টসহ ঐকমত্য হয়েছিল।
সূত্র: মানবজমিন



