― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অপরাধের ‘পৃষ্ঠপোষক’ কারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মোহাম্মদপুর। শতাধিক স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকার পরেও এই এলাকার বদনাম ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুনোখুনি, মাদকসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে মোহাম্মদপুর বারবার আলোচিত হচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা এই এলাকা নিয়ে।

এতো কিছুর পরেও এই এলাকা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশের অবস্থান কি? তা গত সোমবারের (২৮ জুলাই) একটি ঘটনায় প্রতিয়মান হয়। আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখারের অপসারণ চেয়ে গত ২৫ জুলাই থানার সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে স্থানীয় ছাত্র-জনতা। সেখানে দাবি করা হয়, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি চক্রের সঙ্গে ওসির আঁতাত রয়েছে।

অথচ, সেই ওসিকে থানায় রাখতে পাল্টা মানববন্ধন করা হয় গত সোমবার (২৮ জুলাই)। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টাউন হল জান্নাত হোটেলের সামনে হওয়া ওই মানববন্ধনটিতে জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি ও স্থানীয় কিশোর গ্যাং চক্রের সদস্যরা ছিল।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওসির অপসারণের জন্য বিক্ষোভ কর্মসূচির পরেও তিনি মামলা বাণিজ্য করছেন। ১০ লাখ টাকা মূল্যের হেরোইন জব্দ করেও কোনো মামলা নেওয়া হয়নি। মামলা না হওয়ায় ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোহাম্মদপুর এলাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের অন্যতম বৃহৎ আবাসস্থল। এখানে শতাধিক স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা রয়েছে। তবে এলাকাটি শিক্ষার প্রসারের জন্য আলোচনায় আসে না। অপরদিকে ছিনতাই, ডাকাতি, খুনোখুনি, মাদকসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বারবার সমালোচিত হচ্ছে মোহাম্মদপুর।

ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির অপরাধ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত তিন মাসে ৪৫টি ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে মোহাম্মদপুর থানায়। ছয় মাসে ডাকাতি ও ডাকাতির চেষ্টায় মামলা হয়েছে ২৩টি। একই সময়ে (জানুয়ারি-জুন) চাঁদাবাজীর মামলা হয়েছে ১৯টি। ৯ মাসে হত্যা মামলা হয়েছে ১৭টি। চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাত মাসে গ্রেপ্তারও উল্লেখযোগ্য– ৩৭৯ জন। এরপরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়স্ত্রণে আসছে না।

কয়েক দিন আগে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনার প্রতিকার চাইতে থানায় গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন এক সাংবাদিক। ছিনতাইয়ের শিকার সাংবাদিকের শার্টের একটি বোতাম খোলা কেন– তা নিয়ে জেরা করেন ডিউটি অফিসার। পরে ভুক্তভোগী ওসির কাছে গেলে তিনি ঘটনা শুনে বলেন, ‘ওসি হয়ে আমি এই কম দামি ফোন ব্যবহার করি, …দামি ফোন নিয়ে ঘুরলে ছিনতাই তো হবেই।’ ভুক্তভোগী এ ঘটনা ফেসবুকে পোস্ট করলে অপরাধ দমনে পুলিশের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমালোচনার মুখে পুলিশ দ্রুত তাঁর লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

তবে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলেও তারা থানার ওসির খুব ভক্ত হয়ে উঠেছেন। গত সোমবারের মানববন্ধনে ওসির বদলি ঠেকাতে তারা অনেকেই উপস্থিত হয়েছিলেন। ইকবাল ওরফে কসাই ইকবাল, জেনেভা ক্যাম্পের ৬/২৪ রোডে একটি মাদক স্পট পরিচালনা করেন তিনি। জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি বিল্লাল ইকবালের আপন বড় ভাই। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

আরো উপস্থিত ছিলেন মমতাজ আশরাফী নামে একজন। যিনি জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেলের ছোট ভাই কাল্লুর আপন চাচা শ্বশুর। অভিযোগ রয়েছে, জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি বুনিয়া সোহেলের সকল মাদক কারবার তিনি দেখভাল করেন।
জেনেভা ক্যাম্পের আরেক শীর্ষ মাদক কারবারি চুয়া সেলিম। তার শ্যালক খোকনও উপস্থিত ছিল মানববন্ধনে। এ ছাড়া মানববন্ধনে উপস্থিত ছিল রুবেল ওরফে ইয়াবা রুবেল, মাদক কারবারি সুমনের মা সকিনা ও বেচু ওরফে ল্যাংড়া বেচু।

শুধু মাদক ব্যবসায়ীরাই নয়, মোহাম্মদপুরের ভয়ংকর শীর্ষ কিশোর গ্যাং ‘কবজি কাটা গ্রুপ’ আনোয়ারের অন্যতম সহযোগী নবোদয় এলাকার রাকিব ওরফে ‘হাতভাঙা’ রাকিব মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নবোদয় এলাকায় শীর্ষ কিশোর গ্যাং লিডার ‘এলেক্স’ সুমনের ছোট ভাই। এ ছাড়াও কবজি কাটা গ্রুপের সদস্য ফাহাদ ও নীরব নামে দুই কিশোর গ্যাং সদস্য মানবন্ধনে যোগ দিতে দেখা যায়।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ‘ল্যাংড়া’ বেচু বলেন, ‘আমরা ওসি সাহেবের পক্ষে এখানে দাঁড়িয়েছি। ওসি স্যার ভালো লোক। আমরা সব সময় এ থানায় ওসি স্যারকে চাই।’ কিশোর গ্যাং এর নেতা ‘হাতভাঙা’ রাকিব বলেন, ‘আমরা চাই, ওসি স্যার সবসময় এ থানায় থাকুক।’