নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) পিআর হলো সংখ্যানুপাতিক বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা।
উইকিপিডিয়ার ব্যাখ্যায় দেখা গেছে, আনুপাতিক নির্বাচনী ব্যবস্থা হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে ভোটারদের রায় প্রতিফলিত হয় রাজনৈতিক দলগুলোর ভোট প্রাপ্তির হার অনুযায়ী। উদাহরণস্বরূপ, কোনো দল যদি ১০% ভোট পায়, তাহলে সংসদে তাদের আসনও হবে প্রায় ১০% হারে।
সম্প্রতি এই পিআর পদ্ধতিতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি, সিপিবি, গণসংহতি আন্দোলন, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদের মতো বিভিন্ন দল নির্বাচনের সমর্থন করলেও শুরু থেকেই এর ঘোর বিরোধিতা করে আসছে বিএনপি।
দীর্ঘদিন যাবত পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দাবীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা, সমাবেশ ও মহাসমাবেশ করেছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ।
সবশেষ শনিবার (২৮ জুন) বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন করার দাবীতে মহাসমাবেশ করেছে দলটি।
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
সংসদের প্রস্তাবিত উভয় কক্ষেই এ পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে। এটি হলে কোনো দল ‘জালেম’ হওয়ার আর সুযোগ পাবে না।
এই সমাবেশের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, বড় বড় সমাবেশ করে জাতির কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাবেন না ।
পিআর পদ্ধতি কই থেকে আসে? দেশটাকে সুন্দর করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কিছু করেন না, শুধু আপনার কথামতোই হতে হবে, স্থানীয় সরকার আগে হতে হবে, আবার পিআর ভোট করতে হবে। কেন ভাই? কই থেকে আবিষ্কার করেন এগুলো? কে দেয় বুদ্ধি আপনাদের?
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, পিআর ইস্যু নিয়ে যদি কেউ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির চেষ্টা করে তারা বাংলাদেশের আদর্শে বিশ্বাসী নয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পিআর পদ্ধতি ছাড়া বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো নির্বাচন মেনে নেবে না।
সোমবার (৩০ জুন) খুলনা-৫ আসনের বিভিন্ন স্থানে পথসভা, মতবিনিময় সভা ও গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান বিভিন্ন সেমিনারে বলেছেন, এখন যেভাবে নির্বাচন হয়, তারপর সংসদ গঠিত হয়, সেটা নাগরিকদের খুব একটা উপকারে আসছে না ।
স্থানীয় সরকারে যারা নির্বাচিত হবেন, উন্নয়ন হবে তাদের হাত ধরে। কিন্তু কার্যত এটা এখন এমপিদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। এমপিদের কিন্তু এটা কাজ না।
টিবিএম/জ/রা



