ডেস্ক রিপোর্ট:
ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশইন চলছেই। ভারতে এখনো দুই হাজারের বেশি মানুষকে পুশইনের অপেক্ষার রাখা হয়েছে। সবশেষ বৃহস্পতিবার (২২ মে) ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশুসহ মোট ২১ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
এতো গেল আইনিভাবে বিএসএফ কর্তৃক বিজিবি’র কাছে হস্তান্তর প্রকৃয়ার কথা। এর বাইরেও গত কয়েকদিন যাবত ভারত বেআইনিভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন দুর্গম সীমান্ত এলাকা দিয়ে শত শত মানুষকে পুশইন করছে বা করার চেষ্টা করেছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চলে রাতের আঁধারে বৈদ্যতিক আলো নিভিয়ে দিয়ে ভারতের নাগরিক, সে দেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গাসহ অসংখ্য মানুষকে জোর করে বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দিচ্ছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। চলতি মাসেই সীমান্ত দিয়ে অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অবৈধভাবে পুশইনের জন্য ভারতের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থানে মানুষ জড়ো করে রাখার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির এমন কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন খোদ ভারতেরই মানবাধিকারকর্মীরা।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, বেআইনিভাবে কাউকে বাংলাদেশে পুশইন নেমে নেওয়া হবেনা। ভারতে যদি বাংলাদেশের কোন নাগরিক থেকে থাকেন, তবে নিয়ম অনুযায়ী তাকে ফেরত দেওয়ার আহবান জানান তিনি।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই হাজারেরও বেশি ‘বাংলাদেশি’কে নিজের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য তারা বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন। ওই সকল বাংলাদেশিরা বেআইনিভাবে ভারতে থাকছিলেন এবং তাদের প্রত্যর্পণের আগে পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশকে জানিয়েছে ভারত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার বলেছেন, “যেসব বিদেশিরা বেআইনিভাবে ভারতে আছেন, তারা বাংলাদেশি হোন বা যে কোনও দেশেরই হোন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি এও বলেছেন যে ২৩০০র-ও বেশি এমন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে রয়েছেন, যাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে তাদের নাগরিকত্ব যাচাই সম্পূর্ণ না হওয়ার কারণে তাদের নিজ দেশে ফেরত দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে পুশইন তৎপরতা চালাচ্ছে ভারত। ভারতীয়রা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে নতুন এ কৌশল বেছে নিয়েছে। সীমান্তে বিজিবির নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে এটি সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। ভারত অবৈধ পুশইন বন্ধ না করলে বাংলাদেশকে জাতিসংঘে অভিযোগ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পুশইনের বিষয়ে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সম্প্রতি বলেছেন, ভারত থেকে প্রতিনিয়তই নিয়মবহির্ভূতভাবে পুশইনের ঘটনা ঘটছে। মূলত সিলেটের বিয়ানীবাজার, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ, কুড়িগ্রামের রৌমারীর প্রত্যন্ত চর এলাকা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জনবসতিহীন দুর্গম এলাকা দিয়ে পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। এটি রোধে আমরা সার্বিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। ফ্ল্যাগ মিটিং ও প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছি। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী সাধারণ জনগণ, আনসার ও পুলিশ সদস্যরাও পুশইন রোধে বিজিবিকে সহায়তা করছে।



