ডেস্ক রিপোর্ট : রপ্তানি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ানোর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ শুল্ক না বাড়িয়ে উল্টো তাদের পণ্যে শুল্ক কমানোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
চীন যেখানে পাল্টা শুল্ক আরোপ করে রীতিমতো ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ বাধিয়ে দিয়েছে, সেখানে আলোচনার পথ সুগম করতে বাংলাদেশ হাঁটছে ঠিক ‘উদার’ পথে।
তবে সব পণ্যে শুল্কছাড় দেওয়া হবে না। সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫টি পণ্যে শুল্কছাড় দিতে পারে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের প্রতিযোগী ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিজেদের পণ্যের বাজার ধরে রাখতে দেশটির মন গলাতে বড় ধরনের শুল্কছাড়ের উদ্যোগ নিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, তারা মার্কিন পণ্যে শতভাগ শুল্কছাড় দেবে।
এরপর আলোচনা করে তাদের পণ্যে শুল্ক কমাবে। আর বাংলাদেশ এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিযোগ্য কিছু পণ্যের শুল্কছাড়ের প্রস্তাব তৈরি করেছে।
আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ক্যাপ, ডায়াগনস্টিক ও ল্যাবের যন্ত্রপাতি, মোটরকার, কেমিক্যাল উড পাল্প, সফটওয়্যার, দুধ ও ক্রিম, মেশিনারিজের পার্টস, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, নিউজপ্রিন্ট রোল, ওয়াশিং ও ক্লিনিং প্রিপারশন, হ্যান্ড ডায়াফ্রাম ভাল্ব, ফুড সাপ্লিমেন্ট, টায়ার কর্ড, তেল ও পেট্রলের ফিল্টার, ইনার ডায়ামিটার, বোরিক এসিড, পেইন্ট অ্যান্ড ভার্নিশ, ইউপিএস, আইপিএস, লিফটের মেশিন, সাবান ও অর্গানিক সারফেস, অ্যালকোহল, অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড, বেভারেজ, অক্সিজেন থেরাপি, লোহা ও ইস্পাত, এসি, পেপার বোর্ড, ডেন্টাল সিমেন্ট, ইলেকট্রিক্যাল সার্কিট, পারফিউম, টয়লেট ওয়াটার, চকলেট, প্লেয়িং কার্ড, খেজুর, কার্বন ব্রাশ, জুস, কার্বন, ডিটারজেন্ট, ইন্টারনেট মডেম, হুইস্কি, জেনারেটরের পার্টস, এক্স-রে টিউব, ইলেকট্রিক সিগারেট, শ্যাম্পু, প্রিন্টের কালি, ভিডিও রেকর্ডার, ফুটওয়্যার, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আমদানি করা পণ্যের শুল্ক কমানো সম্ভব কি না জানতে চাইলে এনবিআরের সাবেক সদস্য (কাস্টমস) আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী বলেন, ‘এটা দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হলে সম্ভব। বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি থাকলে তখন স্বাভাবিক রেটের তুলনায় বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়। যেমন—সাফটা চুক্তি।
স্বাভাবিক রেট ১৫ শতাংশ হলে চুক্তি হতে পারে ৫ শতাংশ। কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই। চুক্তি না হলে কোনো এক দেশের জন্য রেট কমানো যায় না।’
তবে দ্বিপক্ষীয় কোনো সমঝোতা হলে একক দেশের জন্য ভিন্ন রেট করা সম্ভব বলে জানিয়েছে এনবিআরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, ‘ডব্লিউটিওর মূলনীতি অনুযায়ী কোনো একটি দেশের জন্য আলাদা ট্যারিফ রেট করা যায় না।
আমি যদি কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করি বা ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট করি তাহলে সেটা সম্ভব। সেটা ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টও হতে পারে।
ডব্লিউটিওর এমএফএন (মোস্ট ফেবার্ড নেশনস) ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, আমরা চাইলেও কোনো দেশের জন্য এটা করতে পারি না।
তবে দ্বিপক্ষীয় কোনো সমঝোতা করলে (সে আমাকে ছাড় দেবে, আমিও তাকে ছাড় দেব) শুল্কহার কমানো যাবে।’
এখন শুল্ক কমানো হলেই কি সমাধান হবে? যদিও শুল্ক আরোপের মূল লক্ষ্য আমদানি বাড়ানো। এখন শুল্ক কমাতে গেলেও আছে নানা বিপত্তি।
প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি থাকলে এটা করা যেত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের এমন কোনো চুক্তি নেই।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার ইস্যু নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা, বাণিজ্য উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এসডিজি সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।
বিএম/জ/রা



