বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনায় মঙ্গলবার (১১ মার্চ) গভীর রাতে পৃথক দুটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
পৌর শহরের কালীবাড়ি এলাকায় মন্টু চন্দ্র দাস (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের বাওয়ালকর গ্রামে মোঃ মিরাজ হোসেন (৩৮) নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ জানায়, কালীবাড়ি এলাকায় মন্টু দাস হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তারা হলেন- শ্রীরামচন্দ্র রায় (৫২), বিপুল চক্রবর্তী (৪১), রাকিবুল ইসলাম (৪২) এবং মোঃ আসলাম (৩৫) ওরফে কালু।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিহত মিরাজ ও মন্টু চন্দ্র দাসের পরিবারের দাবী, দু’জনকেই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
দুই খুনের ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর মন্টু নির্ধারিত সময়ে বাড়ি না ফেরায় তার স্ত্রী শিখা রানী তাকে ফোন করেন। ফোনের রিংটোন বাড়ির পেছনের পুকুরপাড় থেকে আসতে শুনে সেখানে গিয়ে তিনি মন্টুর মরদেহ দেখতে পান।
এসময় নিহতের পরনের কাপড় ছিল ভেজা, হাতে কামড়ের দাগ ও সারা শরীরে কাদা মাখা। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মন্টু দাসের মরদেহটি উদ্ধার করে।
মন্টু দাসের স্ত্রী শিখা রাণী বলেন, গত ২ মার্চ আমাদের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে প্রতিবেশী ছিদামের ছেলে শ্রীজিৎ ধর্ষণ করে।
মন্টু দাস তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। মামলার প্রধান আসামি শ্রীজিৎ কারাগারে থাকলেও বুধবার ছিল তার জামিন শুনানি।
শিখার ধারণা, আসামির স্বজন ও বন্ধুরা প্রতিশোধ নিতে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে।
এদিকে সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের বাওয়ালকর গ্রামের নিহত মিরাজ শহরের একজন সাউন্ড সিস্টেমের দোকানের কর্মচারি ছিলেন।
মঙ্গলবার রাতে কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়।
বুধবার সকালে বদরখালি ইউনিয়নের কুমড়াখালি এলাকার সিকদার বাড়ির সামনে একটি মুগডাল ক্ষেতে জাম গাছের নিচে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। পরে তারা পুলিশকে খবর দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহতের মাথা, মুখ ও চোখসহ শরীরের কয়েকটি জায়গায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা কোনো ধারালো অস্ত্র বা ভারী বস্তু দ্বারা আঘাতের ফলে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল হালিম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মন্টু দাস ও মিরাজ নামের দুইজনের মরদেহের উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে প্রাথমিক ভাবে এটাকে হত্যাকান্ড হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের জন্য আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন,দুইটি লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে হত্যাকান্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত চলছে, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান ওসি।
বিএম/জ/রা



