ডেস্ক রিপোর্টঃ তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে শনিবার হাওয়াই সফরকালে বলেছেন, “যুদ্ধের কোনো বিজয়ী নেই এবং শান্তির মূল্য অপরিসীম। পার্ল হারবারে জাপানের আক্রমণের স্মৃতিচারণে ইউএসএস অ্যারিজোনা মেমোরিয়ালে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
তাইওয়ান থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের তিনটি দ্বীপ রাষ্ট্রে সফরের পথে দুই দিনের জন্য হাওয়াইয়ে যাত্রাবিরতিতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট লাই। যদিও এই সফর আনুষ্ঠানিকভাবে শুধুমাত্র যাত্রাবিরতি হিসেবে দেখানো হয়েছে, এটি চীনের তীব্র অসন্তোষের কারণ হয়েছে।
হাওয়াইয়ের তাইওয়ান প্রবাসী সম্প্রদায় এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদদের সাথে এক সভায় লাই বলেন, “শান্তি নিশ্চিত করার গুরুত্ব পার্ল হারবারের স্মৃতিস্তম্ভ আমাদের মনে করিয়ে দেয়। শান্তি অমূল্য এবং যুদ্ধের কোনো বিজয়ী নেই। আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে যুদ্ধ প্রতিরোধে।”
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “কঠোর প্রতিবাদ” জানিয়েছে এবং তাইওয়ানের কাছে সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির ঘোষণার বিরুদ্ধে “দৃঢ় পাল্টা ব্যবস্থা” নেওয়ার কথা বলেছে।
চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে কোনো ধরনের সরকারি সম্পর্ক দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করি এবং তাইওয়ানের নেতাদের যেকোনো নামে বা কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রাবিরতি প্রত্যাখ্যান করি।”
চীনের সামরিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা বাড়ছে, কারণ এর আগে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে দুই দফা বড় আকারের সামরিক মহড়া চালিয়েছে বেইজিং।
সফরকালে লাই তাইওয়ানের গণতন্ত্রকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি মডেল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “একতাবদ্ধ থাকলে আমরা সব বাধা অতিক্রম করতে পারব।”
হাওয়াইয়ের পরে লাই মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, তুভালু এবং পলাউ সফর করবেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ামে আরেকটি যাত্রাবিরতি করবেন।
চীনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাইওয়ানের সরকার বলেছে, তারা অন্য দেশ ভ্রমণের অধিকার রাখে এবং বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।



