বরগুনা প্রতিনিধি
বরগুনায় পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে রিমান্ডের আসামীদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে আসামীর পক্ষের সন্ত্রাসীরা। এতে পুলিশ বাধা দিলে তাদের উপর হামলা হয়। এ সময় পুলিশের ৪ জন সদস্যসহ বরগুনা সদর হাসপাতালের ৫ জন কর্মচারী আহত হয়েছে। আজ সোমবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে পুলিশ। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, বরগুনার তালতলী থানার এসআই শহিদুল ইসলাম, রিয়াজুল ইসলাম, অন্তর ও ফোরকান। বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতরা হলেন, বরগুনা সদর উপজেলার ঘটবাড়ীয়া নামক এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে আশ্রাফুর রহমান অন্তু (২০),তালতলী উপজেলার মালিপাড়া এলাকার আবদুস ছত্তরের ছেলে মো.ছগির মিস্ত্রি (৫০) ও তার স্ত্রী হামিদা বেগম।
জানা যায়, ২০ অক্টোবর বরগুনার তালতলী উপজেলা বিএনপির কার্যালয় ও তালতলী উপজেলা জিয়া মঞ্চ ভাঙচুর করেন তালতলী উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত ছাত্রনেতা টাচ মিজানসহ তার অনুসারীরা। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে তালতলী থানায় মামলা করেন তালতলী উপজেলা জিয়া মঞ্চের আহবায়ক জাকির খলিফা।
ওই মামলায় ‘টাচ মিজানসহ ৭ আসামীর সোমবার রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। আসামীরা হল, মোঃ মিজান ওরফে টাচ মিজান, মোঃ রাকিব, মোঃ জাহিদ, মোঃ খলিল মিয়া,ইমার ওরফে বাটন ইমরান,আরিফ ও ইউসুফ মিয়া।
রিমান্ডে নেওয়ার আগে আসামীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাদেরকে সোমবার দুপুরে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শহিদুল ইসলাম। এ সময় আসামীপক্ষের লোকজন পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা করে আসামি সিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে পুলিশ বাধা দিলে আসামীসহ তাদের পক্ষের লোকজন পুলিশের উপর হামলা চালায়। হামলার ঘটনা দেখে হাসপাতালের কর্মচারীরা বাধা দেওয়ায় তাদেরকে মারধর করে। হামলায় পুলিশের চার সদস্য আহত হয়।
খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে ওই ৭ আসামিসহ হামলার ঘটনা জড়িত আরও ৩জনকে আটক করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শহীদুল ইসলাম বলেন, তালতলী থানায় দ্রুত বিচার আইনে করা একটি মামলায় ৭ জন আসামের বিরুদ্ধে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করি। ৫ নভেম্বর আমতলীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার আগে এবং পরে আসামিদের শারীরিক পরীক্ষা করার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। এ সময় আসামি পক্ষের লোকজন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। হামলায় আমিসহ চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি। এছাড়াও হাসপাতালে পাঁচজন কর্মচারী আহত হয়েছে।
বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মোঃ বশিরুল আলম বলেন, তালতলী থানার একটি মামলার রিমান্ডের আসামী পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করার খবর শুনে হাসপাতালে যাই। পরে ৭ জন আসামিসহ তিনজন হামলাকারীকে আটক করি। বাকি হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, তালতলী থানা পুলিশের সদস্যরা ৭ জন আসামিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ সময় হাসপাতালে থাকা আসামি ও স্বজনরা পুলিশের ওপর হামলা করেন। হাসপাতালে কর্মরত কয়েকজন এ ঘটনায় বাধা দিলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয়। যেসব আসামিরা পুলিশের হেফাজতে ছিল তাদেরসহ ঘটনায় জড়িত আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়ারধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।



