― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

দেশে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ–ঘাটতির আশঙ্কা; বাড়ছে লোডশেডিং

বাংলাদেশে তীব্র জ্বালানিসংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নেমেছে, যার ফলে দেশজুড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ–ঘাটতির আশঙ্কা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজ বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ধরা হলেও উৎপাদন সক্ষমতা মাত্র ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এই বিশাল ঘাটতি পূরণে দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। মূলত গ্যাস ও কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর।

বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা জানান, দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা থাকলেও কাঁচামাল বা জ্বালানির অভাবে তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্যাসচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া এবং উচ্চমূল্য এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। ডলার সংকটের কারণে ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল আমদানি কমিয়ে দেওয়ায় বিকল্প উৎস থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তীব্র গরমের মধ্যে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

কারিগরি ত্রুটি ও কয়লা সংকটের কারণে দেশের প্রধান কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে আংশিক বা পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ভারতের আদানি পাওয়ার এবং বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের ইউনিটগুলো বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এই কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা করছে সরকার। বর্তমানে শিল্পাঞ্চল ও কৃষি সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিং সমন্বয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের স্থবিরতা না আসে।

ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে রাজধানী ঢাকা শহরকে আপাতত লোডশেডিংমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ঢাকার বাইরে এবং বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং শিল্পায়নের ফলে বিদ্যুতের যে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা বিদ্যমান জ্বালানি সরবরাহ দিয়ে মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকার বর্তমানে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো দ্রুত সচল করা এবং মে মাসের শুরু থেকে বাড়তি ১ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। ততক্ষণ পর্যন্ত দেশের মানুষকে এই লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি মেনে নিতে হচ্ছে।