― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

সংরক্ষিত নারী আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: ১১ দলীয় ঐক্য ও বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট, জামায়াত জোট ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের এই মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় যেমন প্রবীণ নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে, তেমনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নতুন মুখ ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দিকা সংবাদমাধ্যমকে তাদের জোটগত অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেছেন। ১১ দলীয় ঐক্যের অধীনে জামায়াত জোট মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসন পেয়েছে। এর মধ্যে ৮টি আসনে তারা সরাসরি দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে এবং জোটের বৃহত্তর স্বার্থে অবশিষ্ট ৩টি আসন মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন—নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নী, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ এবং সামসুন নাহার। জামায়াতের এই ৮ প্রার্থীর বাইরেও ১১ দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি, জাগপা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারী নেত্রীরা মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে এবারের তালিকার সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, জুলাই আন্দোলনে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া।

অন্যদিকে, মূল ধারার বিরোধী দল বিএনপি তাদের ৩৬টি সংরক্ষিত আসনের বিপরীতে শক্তিশালী একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। দীর্ঘ চার দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে দলটির মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাত শতাধিক আগ্রহী প্রার্থীর আবেদনের ভিড় থেকে যোগ্যতমদের বাছাই করতে হিমশিম খেতে হয়েছে হাইকমান্ডকে।

বিএনপির তালিকায় যেমন রয়েছে বর্ষীয়ান নেতৃত্ব, তেমনি রয়েছে রাজপথের লড়াকু নেত্রীদের নাম। স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম, নিপুণ রায় চৌধুরী, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান এবং ফেরদৌসী আহমেদের মতো পরিচিত মুখগুলোর নাম তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে তালিকায় নতুন মুখ হিসেবে ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম ও রেহেনা আক্তারের নাম রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রয়াত শফিউল বারীর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন এবং ছাত্রদলের প্রতিনিধি মানসুরা আক্তারসহ অন্যান্যদের নাম ঘোষণা করে বিএনপি তাদের নারী শক্তির এক সমন্বিত রূপ তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যারা তৃণমূলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতায় দলের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদেরই সংরক্ষিত আসনে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মিলিত হবেন বলে জামায়াত সূত্র জানিয়েছে। সেখানে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি ও নির্বাচনী কর্মকৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সংরক্ষিত আসনের এই নির্বাচনকে ঘিরে বড় দলগুলোর এই প্রার্থী নির্বাচন প্রকারান্তরে তাদের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্যকেও স্পষ্ট করছে।

আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে ৫০টি আসনের বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে। প্রতি ৬ জন সাধারণ সংসদ সদস্যের বিপরীতে ১টি সংরক্ষিত আসন হিসেবে এই বিভাজন করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং বাকি আসনগুলো স্বতন্ত্র ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বণ্টিত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনগুলোয় সরাসরি ভোটের চেয়ে দলীয় মনোনয়ন ও সমঝোতার ভিত্তিতেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তবে এবারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন হওয়ায় প্রতিটি দলের প্রার্থী নির্বাচন ছিল বেশ সতর্ক ও কৌশলী।

পরিশেষে বলা যায়, সংরক্ষিত নারী আসনের এই নির্বাচন কেবল সংসদে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয় নয়, বরং এটি প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য তাদের নারী নেতৃত্বকে মূল্যায়নের এক অনন্য সুযোগ। শহীদ পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে ছাত্রনেত্রী পর্যন্ত—সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে বিএনপি ও জামায়াত জোট যে তালিকা দিয়েছে, তা আগামী দিনের সংসদীয় রাজনীতিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আরও জোরালো করবে বলে আশা করা হচ্ছে।