― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

জ্বালানির দামে রেকর্ড: বাসে ৪০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর দাবি, রাজধানীতে যাত্রীদের নাভিশ্বাস

দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর গণপরিবহন খাতে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম এক লাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহন মালিকরা এখন বাসের ভাড়া ৪০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি তুলেছেন। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর রাজধানীর সড়কগুলোতে অঘোষিতভাবে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে দিনভর বাগ্‌বিতণ্ডা চলেছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রোল ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই পাম্পগুলোতে এই নতুন দামে তেল বিক্রি শুরু হয়। এর পরপরই ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ভাড়া পুনর্নির্ধারণের জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। তাদের দাবি, কেবল তেলের দাম নয়, ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে বাসের যন্ত্রাংশের দামও আকাশচুম্বী, তাই ভাড়া বাড়ানো ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই।

রোববার সরেজমিনে ঢাকার বিভিন্ন রুটে দেখা গেছে, বিআরটিএ থেকে নতুন ভাড়ার কোনো প্রজ্ঞাপন জারি না হলেও চালকের সহযোগীরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন। বলাকা বা রাইদা পরিবহনের মতো বাসগুলোতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে তেলের দাম বাড়ার অজুহাত দিচ্ছেন শ্রমিকরা। সায়েদাবাদ থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সরকার এখনো ভাড়া বাড়ায়নি, অথচ রাস্তায় রীতিমতো ডাকাতি চলছে।”

পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, ২০২২ সালের পর আর ভাড়া সমন্বয় করা হয়নি। তখন ডলারের দাম ছিল ৮২ টাকা, যা এখন ১২৪ টাকা ছাড়িয়েছে। লোকসান ঠেকাতে আজ সন্ধ্যায় বিআরটিএ-র সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসছেন মালিকরা। সেখানে তারা তাদের ৪০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির দাবিটি জোরালোভাবে উপস্থাপন করবেন। আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও রাজপথে ভাড়ার নৈরাজ্য সাধারণ মানুষের যাতায়াতকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সাধারণ মানুষ এখন তাকিয়ে আছে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে, যাতে যৌক্তিক সমাধান মেলে।