― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

সংসদ বর্জন ও গণতন্ত্রের সংকট: বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভায় স্পিকারের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণ হচ্ছে গঠনমূলক আলোচনা। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সংসদ বয়কট বা বর্জন করলে কেবল গণতন্ত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং সাধারণ মানুষও তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে স্থানীয় চেম্বার অব কমার্সের সদস্যদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম এ কথা বলেন। তিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কারণে-অকারণে ‘ওয়াকআউট’ করার প্রবণতা কমিয়ে দায়িত্বশীল আচরণের ওপর জোর দেন।

স্পিকার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সংসদে ওয়াকআউট করা বিরোধী দলের একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু এই চর্চা যেন কেবল রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। তিনি সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে যেন জনগণের স্বার্থ ও অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়। ১৬ বছরের ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন’ সময়ের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের অভাবে দেশ গুম, খুন ও লুটপাটের শিকার হয়েছে, যা ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আজ মুক্ত।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে সুসংহত করার আহ্বান জানিয়ে মেজর হাফিজ বলেন, ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো স্বৈরশাসকের উত্থান না ঘটে, সেজন্য যারা স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করেছে, তাদের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রাখতে হবে। তিনি সরকারি দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সংসদে বিরোধী দলকে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ ও পরিবেশ করে দিতে হবে। একইসাথে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের পছন্দের সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবায়দুল হক চাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্পিকার একাত্তরের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দেশে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে, তা দ্রুতই টেকসই রূপ পাবে। সভায় জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনসহ স্থানীয় ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্পিকারের এই বক্তব্য মূলত একটি জবাবদিহিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক সংসদীয় কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।