― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

খালেদা জিয়ার মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক নাতনি জাইমা রহমানের হাতে

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আজ এক আবেগঘন পরিবেশে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও ৫টি প্রতিষ্ঠানের হাতে এই গৌরবোজ্জ্বল পদক তুলে দেন। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত ও মর্মস্পর্শী মুহূর্তটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মরণোত্তর পদক গ্রহণের দৃশ্য। তাঁর পক্ষে নাতনি জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন। গণতন্ত্র রক্ষা, নারী শিক্ষার প্রসার এবং দেশ গঠনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই মরণোত্তর সম্মান প্রদান করা হয়।

এ বছর মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন মোট সাতজন কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী এবং সমাজসেবায় কিংবদন্তি চিকিৎসক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরীকে এই সম্মান জানানো হয়। এছাড়াও সংস্কৃতিতে সুরস্রষ্টা বশীর আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমানকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের পক্ষে সুযোগ্য সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।

ব্যক্তি পর্যায়ে আরও পদক গ্রহণ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেত, ক্রীড়ায় টেবিল টেনিস কিংবদন্তি জোবেরা রহমান লিনু এবং সমাজসেবায় সাইদুল হক। গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম এবং অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত হন। পরিবেশ সংরক্ষণে অনন্য অবদানের জন্য পদক গ্রহণ করেন মুকিত মজুমদার বাবু। প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পিকেএসএফ, এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে তাঁদের কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হয়।

জাতীয় সংগীতের সুর আর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে একাত্তরের চেতনা ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথ প্রতিধ্বনিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম এবং সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭৭ সাল থেকে চালু হওয়া এই পুরস্কার কেবল একটি স্বর্ণপদক বা সম্মাননা নয়, এটি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি রাষ্ট্রের গভীর কৃতজ্ঞতার প্রতীক।