জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে গোপালগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কয়েকশ মোটরসাইকেল চালক। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে গোপালগঞ্জ পৌরসভার মান্দরতলা এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে এই অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। নিগি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ চালকরা এই চরম পন্থায় বেছে নেন। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে।
ঘটনার মূলে ছিল ফিলিং স্টেশনের অভ্যন্তরীণ জনবল সংকট। জানা গেছে, গত বুধবার একটানা প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করার পর অতিরিক্ত পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে আজ সকালে কাজে যোগ দেননি ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা। ফলে সকাল থেকেই পাম্পটিতে তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন চালকরা। দুপুর আড়াইটার দিকে তারা পাম্পের সামনের সড়কে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে মহাসড়কটি বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে।
নিগি ফিলিং স্টেশনের মালিক লফিজুর রহমান জানিয়েছেন, কর্মচারীদের অনুপস্থিতির কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে স্টেশনের ব্যবস্থাপক নিজে দায়িত্ব নিয়ে তেল সরবরাহ শুরু করলে ক্ষুব্ধ চালকরা শান্ত হন এবং অবরোধ তুলে নেন। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রায় এক ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে জ্বালানি তেলের মতো জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।



