ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় তপ্ত মরুভূমির আকাশে ফের শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একটি মার্কিন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় চারজন সেনা সদস্যের অকাল মৃত্যু কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে পরাশক্তির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির এক চরম মূল্য। আকাশে জ্বালানি সরবরাহের মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের সময় ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় আধুনিক সমরবিদ্যার সীমাবদ্ধতাকেও আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। ছয়জন ক্রু সদস্যের মধ্যে চারজন প্রাণ হারালো, আর বাকি দুজনের জন্য এখনো চলছে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা—এই দৃশ্যপট কেবল রণকৌশলের অংশ নয়, বরং মানবিক এক ট্র্যাজেডি।
পেন্টাগন বা সেন্টকম এই ঘটনাকে সরাসরি যুদ্ধসংক্রান্ত হামলা বলে অস্বীকার করলেও, ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর দায় স্বীকারের বিষয়টি পুরো ঘটনাকে এক রহস্যময় ধূম্রজালের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি ছায়াযুদ্ধের চোরাগোপ্তা হামলা—এই বিতর্কের মাঝেই গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হতাহতের তালিকা দীর্ঘতর হচ্ছে। ইরানকে ঘিরে চলমান এই যে বহুমুখী উত্তেজনা, তাতে সাধারণ সৈনিকদের জীবন আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
অন্যদিকে, একই দিনে মার্কিন নৌবাহিনীর গর্ব ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ রণতরীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামরিক বাহিনীর ভেতরে এক ধরণের ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একদিকে আকাশে বিমান বিপর্যয়, অন্যদিকে সাগরে রণতরীতে আগুন—সব মিলিয়ে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পেন্টাগন। এই সামরিক ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক চাপ। ১৫০ জন সেনার আহত হওয়ার পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই চোরাবালি থেকে বের হওয়া ওয়াশিংটনের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। শেষ পর্যন্ত এই সামরিক সংঘাতের অবসান কোথায়, সেই প্রশ্নই আজ ইরাকের আকাশের ধোঁয়ার মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে।



