― Advertisement ―

ইথিওপিয়ায় বৃষ্টির তাণ্ডবে পাহাড় ধস; ১২৫ জনের খোঁজে রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান

ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় পাহাড়গুলো যখন বৃষ্টির ধারায় সিক্ত হচ্ছিল, কেউ ভাবেনি সেই জলধারা এক ভয়াবহ মরণফাঁদে পরিণত হবে। গামো জোনের শান্ত জনপদগুলো এখন ধ্বংসস্তূপ আর স্বজন হারানোর আহাজারিতে ভারী। টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ কেবল পাহাড়ের ঢালকেই আলগা করেনি, বরং শত শত মানুষের স্বপ্ন আর অস্তিত্বকে মাটির নিচে জীবন্ত কবর দিয়েছে। ৫০টি প্রাণহীন দেহ উদ্ধার আর ১২৫ জনের নিখোঁজ হওয়ার এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যা নয়; এটি এক একটি পরিবারের চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার গল্প।

উদ্ধারকর্মীরা যখন কাদার সমুদ্র থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করেন, তখন তা যেন অন্ধকারের মধ্যে এক চিলতে আলোর মতো প্রতিভাত হয়। কিন্তু বাস্তবতা অত্যন্ত রূঢ়। গাচো বাবা, কাম্বা এবং বোনকে জেলার প্রতিটি প্রান্তে এখন কেবল কাদা আর ধ্বংসাবশেষ। পাহাড়ি এই দুর্গম অঞ্চলে ভারী যন্ত্রপাতির অভাব এবং বিরতিহীন বৃষ্টি উদ্ধারকাজকে এক দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে।

এই দুর্যোগ আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রকৃতির আচরণ কতটা অননুমেয় ও নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছে। যখন প্রশাসন এখনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঠিক হিসাব মেলাতে ব্যস্ত, তখন খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো খুঁজছে তাদের ভিটেমাটি আর প্রিয়জনদের। ইথিওপিয়ার এই পাহাড় ধস কেবল একটি আঞ্চলিক দুর্যোগ নয়, এটি সমগ্র বিশ্বের জন্য এক সতর্কবার্তা—প্রকৃতিকে অবজ্ঞা করার মূল্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে।