সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরের অদূরে একটি যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে কারজার্স শহরের কেন্দ্রস্থলে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাসটিকে গ্রাস করে নেয়। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই যানটি প্রায় সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। এই ঘটনায় তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টার ও অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, এই অগ্নিকাণ্ডটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয় বরং একটি পরিকল্পিত বা ‘স্বেচ্ছাকৃত কাজ’ হতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এক ব্যক্তি বাসের ভেতরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন, যা দ্রুত পুরো যানে ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রাইবুর্গ ক্যান্টনের পুলিশ ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে। দাহ্য পদার্থের উৎস এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মঘাতী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, তবে নাশকতার বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছে না।
ভস্মীভূত বাসটি সুইজারল্যান্ডের ডাক বিভাগের সহযোগী আঞ্চলিক পরিবহন সেবা ‘পোস্টবাস’ (PostBus) দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকাটি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা আলামত সংগ্রহ শুরু করেন। সুইস প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি উদ্ধারকাজে নিয়োজিত জরুরি বিভাগের সদস্যদের দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
পশ্চিম ইউরোপের শান্ত দেশ হিসেবে পরিচিত সুইজারল্যান্ডে জনাকীর্ণ বাসে এমন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে। বাসে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ ও কারিগরি তথ্য বিশ্লেষণ করে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই রুটে পরিবহন চলাচলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।



