বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের পরপরই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনের আদলে সংসদ ভবনের বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁদের শপথ বাক্য পাঠ করান। এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের আইনসভার অভিভাবক হিসেবে তাঁরা আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
নবনিযুক্ত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের জীবন একাধারে সামরিক বীরত্ব, ক্রীড়া সাফল্য এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ‘বীর বিক্রম’ উপাধিতে ভূষিত হন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একজন তুখোড় অ্যাথলেট ছিলেন, ১৯৬৪ সাল থেকে টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এ ছাড়া পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক হিসেবেও তাঁর খ্যাতি ছিল। সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই বর্ষীয়ান নেতা বর্তমানে সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।
অন্যদিকে, ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশের আইন অঙ্গন ও রাজনীতিতে এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৭২ সালে নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করা এই রাজনীতিবিদ উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কায়সার কামাল বর্তমানে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নেত্রকোনা-১ আসন থেকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি সংসদীয় নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের এই নির্বাচন ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ধারাবাহিকতায় সম্পন্ন হয়েছে। হাফিজ উদ্দিন আহমদের মতো একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান এবং কায়সার কামালের মতো একজন দক্ষ আইনজীবীর সমন্বয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ প্রাণবন্ত ও কার্যকর হয়ে উঠবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করছেন। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে এই শপথ অনুষ্ঠানটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার একটি আনুষ্ঠানিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



