মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের নজিরবিহীন অস্থিরতা নিরসনে শক্ত অবস্থানে গিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে তিনি জি-৭ জোটের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিতব্য এই সভায় বিশ্বনেতারা মূলত তেলের দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বর্তমান জোটের সভাপতি হিসেবে ফ্রান্স এই সংকট মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।
গত কয়েক দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের বিচ্যুতি লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছালেও মঙ্গলবার বাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটে, যার পরিমাণ ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। বাজারের এই অস্থির প্রকৃতি বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এহেন অস্থিতিশীল পরিবেশে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে জি-৭ নেতাদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার জি-৭ দেশগুলোর জ্বালানি মন্ত্রীরা এক বৈঠকে মিলিত হলেও কৌশলগত তেল মজুত (Strategic Petroleum Reserve) থেকে জরুরি ভিত্তিতে তেল সরবরাহের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। উদ্ভূত সংকট ও সরবরাহ সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য তাঁরা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাকে (IEA) দায়িত্ব দিয়েছেন। মন্ত্রীদের ব্যর্থতার পরই প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ সরাসরি রাষ্ট্রপ্রধানদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মূলত তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করাই এই জরুরি সভার প্রধান লক্ষ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করছে মার্কিন প্রশাসন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নৌবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ট্যাংকারগুলোর জন্য যুদ্ধকালীন বীমা সহায়তার ব্যবস্থা করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রসহ জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো—কানাডা, জাপান, ইতালি, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স—একযোগে কাজ করলে জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।



