সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প এখন খোদ আশ্রয়হীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের মহিষকুড় এলাকায় প্রায় ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৮টি ঘর উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেওয়ার আগেই ধসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রকল্পের চারপাশের মাটি সরে গিয়ে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় ঘরগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই মানবিক উদ্যোগটি এখন কেবল পরিকল্পনার অভাব আর তদারকির সংকটে ভেস্তে যাওয়ার মুখে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৫৫ শতক জমির ওপর নির্মিত এই সারি সারি ঘরগুলোর দুই পাশেই রয়েছে বিশাল মৎস্য ঘের। ঘরের নিরাপত্তা ও পাড় রক্ষায় যে প্যালাসাইডিং করা হয়েছিল, তার বড় একটি অংশ এখন কাত হয়ে পড়েছে। মাটির নিচের অংশ ধসে যাওয়ায় ফাটলগুলো ক্রমশ ঘরের ভিত্তির দিকে এগিয়ে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ হাবিবুর রহমানের মতে, অর্ধকোটি টাকার এই প্রকল্পে মাটির ধরন এবং পাশের ঘেরের প্রভাব বিবেচনা না করেই নির্মাণকাজ চালানো হয়েছে। ফলে উদ্বোধনের আগেই প্রকল্পের এমন জরাজীর্ণ দশা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ পুরো প্রকল্পে খরচ হয়েছে ৪৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা। অথচ এক বছর আগে কাজ শেষ হলেও রহস্যজনক কারণে ঘরগুলো এখনো ভূমিহীনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকেও এই ধসের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে পানির চাপে এই ভাঙন রোখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম ভাঙনের সত্যতা স্বীকার করে দায় চাপিয়েছেন পাশের ঘের মালিকদের ওপর। তাঁর দাবি, ঘেরের পানি সেচে ফেলায় প্যালাসাইডিং ভারসাম্য হারিয়ে কাত হয়ে গেছে। তবে ঘের মালিকরা পুনরায় পানি পূর্ণ করলে সংস্কারের যে আশ্বাস তিনি দিয়েছেন, তাকে ‘অস্থায়ী সমাধান’ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করে ঘরগুলো নিরাপদ না করলে সরকারের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি ভূমিহীনদের স্বপ্নও ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।



