শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তের ধীরগতি এবং চার্জশিট দাখিলে বিলম্ব নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বোন মাসুমা হাদি এই ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরিবার কেবল ভাড়াটে শুটারদের বিচার চায় না, বরং এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড বা পুরো চক্রের বিচার চায়। পরিবারের দাবি, ঘটনার ৮৭ দিন পার হলেও গ্রহণযোগ্য কোনো অগ্রগতি না হওয়া বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুমা হাদি গত ১২ ডিসেম্বরের সেই ভয়াবহ স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রকাশ্য দিবালোকে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। দীর্ঘ লড়াই শেষে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। হাদির পরিবারের প্রশ্ন—প্রকাশ্য দিবালোকে এমন হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গেল? এই পালিয়ে যাওয়ার পেছনে কারা মদদ দিয়েছিল, তাদেরও জনসমক্ষে আনার দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতে অভিযুক্ত দুই আসামির গ্রেপ্তারের খবর আসায় পরিবার কিছুটা আশার আলো দেখছে। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের চিহ্নিত করা এখন সময়ের দাবি। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ বা ‘নাটক’ সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।
পরিবার মনে করে, এই হত্যাকাণ্ডের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মানের তদন্ত হওয়া উচিত। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত চার্জশিট দাখিলের দাবি জানান। দায়সারা কোনো তদন্ত রিপোর্ট দিলে দেশের সাধারণ মানুষকে নিয়ে রাজপথে নামার হুঙ্কারও দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা এই শোকাতুর পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।



