― Advertisement ―

জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করেই এগোবে আইন মন্ত্রণালয়; প্রথম দিনেই বড় অঙ্গীকার

বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পাহাড় সমান প্রত্যাশার ভার কাঁধে নিয়েছেন নবনিযুক্ত আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সচিবালয়ে তাঁর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের...

ট্রাইব্যুনালে ১ কোটি টাকার ‘ডিল’: তদন্তের নির্দেশ চিফ প্রসিকিউটরের

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার মতো এক গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থানে গিয়েছেন বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। সদ্য সাবেক এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে জামিন পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১ কোটি টাকা দাবি করার তথ্য ফাঁস হওয়ার পর মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই অভিযোগের বিষয়ে একটি নিবিড় অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা করা হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিতের যে মঞ্চে এই ধরনের অনৈতিক লেনদেনের খবর আসা পুরো ট্রাইব্যুনালের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন গত ৭ অক্টোবর নিয়োগ পাওয়া প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার। অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা থেকে জামিন পাইয়ে দিতে তাঁর পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেছিলেন তিনি। হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিং ইতিমধ্যে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা পুরো বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংবাদ দেখার পরপরই তিনি সব প্রসিকিউটরকে জরুরি ভিত্তিতে তলব করেন এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তৎপর হন।

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সাইমুম রেজা কয়েকদিন আগেই তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন এবং সোমবার আইন মন্ত্রণালয় তাঁর অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর আগের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি জেনে সাইমুমকে ওই সুনির্দিষ্ট মামলা থেকে সরিয়ে দিলেও অন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা ট্রাইব্যুনালের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেননি। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর এই ঘটনায় গভীর দুঃখ ও মর্মবেদনা প্রকাশ করে বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এই ধরনের নৈতিক স্খলন কোনোভাবেই কাম্য নয়।

অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং কেন পূর্ববর্তী পদক্ষেপগুলো জোরালো ছিল না, তা খুঁজে বের করা হবে। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালের প্রতি জনগণের যে আস্থা রয়েছে, তা রক্ষায় তদন্ত প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির পদত্যাগ গৃহীত হলেও তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের পথ খোলা রাখা হয়েছে।