শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কনস্যুলার সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর ডিসেম্বরে রাজধানীর রাজপথে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল উদীয়মান এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে। দীর্ঘ তদন্ত ও সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালানোর পর অবশেষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুই প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযুক্তদের তথ্য ও তাদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ বা ‘কনস্যুলার অ্যাক্সেস’ চাওয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খুব দ্রুতই এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং দিল্লির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে। এরপরই স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আসামিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, বিগত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়াটিও অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টন এলাকায় রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম ওরফে মাসুদ, যাকে সরাসরি সহযোগিতা করেছিলেন যুবলীগ কর্মী আলমগীর হোসেন। তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে যে, মিরপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর সরাসরি পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় এই হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন হয়।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) জানিয়েছে, ফয়সাল ও আলমগীর অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেছিলেন। সর্বশেষ তারা বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ খুঁজছিলেন, ঠিক তখনই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির আজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বন্দি বিনিময় চুক্তি বা কূটনৈতিক চ্যানেলে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।



