ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বকেও সমূলে উৎপাটন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে যিনিই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তাকেও ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও সামরিক বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তু বা ‘টার্গেট’ হিসেবে বিবেচনা করবে। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ফারসি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে এই চরম হুঁশিয়ারি দেয় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে।
ইসরায়েলের এই হুমকি কেবল পরবর্তী নেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং যারা নতুন নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ইরানের ৮৮ সদস্যের শক্তিশালী ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট’-এর সদস্যরাও এখন সরাসরি ইসরায়েলের নিশানায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবল একটি সামরিক হুমকি নয়, বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ও ধর্মীয় কাঠামোকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল। ইসরায়েলের এমন আগ্রাসী অবস্থান তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যকার সংঘাতকে এক নতুন এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট নামক এই পরিষদটি ইতিমধ্যে বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সংবেদনশীল সময়ে ইসরায়েলের এই ‘হিটলিস্ট’ তৈরির ঘোষণাটি মূলত ইরানের শাসনব্যবস্থাকে অকার্যকর করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আলি খামেনির নিহত হওয়ার খবরটি পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এখন সেই ঘটনার রেশ ধরে নেতৃত্বের উত্তরাধিকারকেও লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক বিরল ও চরম উসকানিমূলক পদক্ষেপ।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই প্রকাশ্য হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর যুদ্ধের পথকে আরও প্রশস্ত করছে। সাধারণত কোনো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের ব্যক্তিকে এভাবে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েল যে কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছে না, তা এই হুঁশিয়ারি থেকে স্পষ্ট। এখন ইরান তাদের পরবর্তী নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই হুমকির জবাবে কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে গোটা অঞ্চলের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।



